.
আন্তর্জাতিক

৭০০ কিলোমিটার পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ‘রজব-২৭’ উন্মোচন করলো ইরান

Email :2

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই নিজেদের সামরিক সক্ষমতার নতুন প্রদর্শনী করলো ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি উন্মোচন করেছে ‘রজব-২৭’ নামের একটি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী স্পিডবোট। তেহরানের ইনকিলাব স্কয়ারে অনুষ্ঠিত এক জনসমাবেশে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদর্শন করা হয় এই নৌযানটি, যা ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আইআরজিসির তথ্য অনুযায়ী, ‘রজব-২৭’ একটি ট্রাইমারান বা তিন-হালবিশিষ্ট নকশায় তৈরি করা হয়েছে। এই বিশেষ নকশার কারণে উত্তাল সমুদ্রেও এটি অধিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পারে এবং দ্রুত গতিতে চলাচল করতে সক্ষম। তবে এই স্পিডবোটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো এর আক্রমণক্ষমতা। ইরানের দাবি, এতে ৭০০ কিলোমিটার পাল্লার দুটি সমুদ্রভিত্তিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বহন ও উৎক্ষেপণের সক্ষমতা রয়েছে।


সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের নৌযান পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীর মতো কৌশলগত জলপথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কারণ বড় যুদ্ধজাহাজের তুলনায় ছোট ও দ্রুতগতির স্পিডবোট সহজে অবস্থান পরিবর্তন করতে পারে এবং আকস্মিক হামলা পরিচালনার সুযোগ পায়। ইরান দীর্ঘদিন ধরেই এই ধরনের দ্রুতগতির নৌবহর গড়ে তোলার কৌশল অনুসরণ করছে।
আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, তিন মিটার পর্যন্ত উচ্চতার ঢেউয়ের মধ্যেও ‘রজব-২৭’ কার্যকরভাবে সামরিক অভিযান পরিচালনা করতে পারবে। এর ফলে প্রতিকূল আবহাওয়াতেও নৌযানটি কার্যকর থাকবে বলে মনে করছে তারা। যদিও এসব সক্ষমতার বেশিরভাগ তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ‘রজব-২৭’ উন্মোচন শুধু একটি নতুন সামরিক প্রযুক্তির প্রদর্শনী নয়, বরং এটি একটি কৌশলগত বার্তাও। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে উত্তেজনা বিরাজ করছে, তার প্রেক্ষাপটে এই ঘোষণা অনেক তাৎপর্য বহন করছে। ইরান বোঝাতে চাইছে যে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সামুদ্রিক শক্তির প্রশ্নে তারা এখনও শক্ত অবস্থানে রয়েছে এবং নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়িয়ে চলেছে।


মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে সামরিক শক্তির ভারসাম্য সবসময়ই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আর সেই বাস্তবতায় ‘রজব-২৭’ শুধু একটি স্পিডবোট নয়, বরং ইরানের সামরিক কৌশল, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের নতুন প্রতীক হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, এই নতুন নৌযান ভবিষ্যতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে এবং এর জবাবে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো কী পদক্ষেপ নেয়।

Related Tag:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts