.
জাতীয়

প্রিয় মানুষ’ বলতে গিয়ে ‘প্রিয় নবী’! ফেনীতে বিএনপি নেতার বক্তব্য ঘিরে তোলপাড়

Email :0

ফেনীতে এক রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক এম এ খালেক বক্তব্য দিতে গিয়ে বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুকে ‘প্রিয় নবী’ বলে উল্লেখ করেন। মুহূর্তেই বক্তব্যটির একটি অংশ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং শুরু হয় তীব্র বিতর্ক।
ঘটনাটি ঘটে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায়। বক্তব্য দিতে গিয়ে এম এ খালেক বলেন, “অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বন পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু আমার আপনার সবার প্রিয় নবী, প্রিয় মানুষ।”
এই বক্তব্যের ভিডিও ক্লিপ সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকে বিষয়টিকে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর বলে মন্তব্য করেন। কেউ কেউ এটিকে ‘শিরকসদৃশ’ বক্তব্য হিসেবে আখ্যা দেন। আবার অনেকেই মনে করেন, এটি ইচ্ছাকৃত নয়, বরং বক্তব্য দেওয়ার সময় মুখ ফসকে হওয়া একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল।
সমালোচনার মুখে বিষয়টি নিয়ে নিজের অবস্থানও ব্যাখ্যা করেছেন এম এ খালেক। তিনি বলেন, তিনি মূলত “প্রিয় মানুষ” বলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বক্তব্য দেওয়ার সময় অসাবধানতাবশত “প্রিয় নবী” শব্দটি মুখ থেকে বেরিয়ে যায়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত একটি ভুল, যার সঙ্গে কোনো ধর্মীয় বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য জড়িত নয়।
এম এ খালেক আরও অভিযোগ করেন, একটি মহল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই ভুলটিকে অতিরঞ্জিত করে প্রচার করছে এবং তাকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছে। তার দাবি, বক্তব্যের পুরো অংশ না দেখিয়ে একটি ছোট ক্লিপ ছড়িয়ে দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে।
তবে ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, জনসম্মুখে রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য কতটা সতর্কতার সঙ্গে দিতে হয়। বিশেষ করে ধর্মীয়ভাবে সংবেদনশীল শব্দ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সামান্য ভুলও বড় বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। একটি শব্দের অসতর্ক ব্যবহার কখনো কখনো পুরো বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্যকে আড়াল করে দেয় এবং জনমনে ভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া তৈরি করে।
এখন প্রশ্ন হলো— এটি কি সত্যিই একটি অনিচ্ছাকৃত মুখ ফসকে যাওয়া ভুল, নাকি বিরোধীরা এটিকে রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত করছে? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই আলোচনা এখনো চলমান।

Related Tag:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts