
যুক্তরাষ্ট্র-এর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে, যা ওয়াশিংটনের ঘোষিত নৌ-অবরোধকে সরাসরি চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ‘রিচ স্টারি’ নামের এই ট্যাঙ্কারটি চীন-এর মালিকানাধীন এবং এতে চীনা ক্রুরা অবস্থান করছেন। ব্লুমবার্গ জানায়, জাহাজটির আগের নাম ছিল ‘ফুল স্টার’ এবং ২০২৩ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এটিকে ইরানের ওপর আরোপিত জ্বালানি নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তার অভিযোগে কালো তালিকাভুক্ত করেছিল।
তবে এই যাত্রায় জাহাজটি ইরানের কোনো বন্দরে নোঙর করেছিল কি না বা এতে কী পণ্য ছিল—তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
জানা গেছে, পারস্য উপসাগর থেকে বের হতে জাহাজটি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দ্বিতীয়বার চেষ্টা চালায়। প্রথমবার মার্কিন নৌ-অবরোধ কার্যকর হওয়ার পর এটি কেশম দ্বীপ সংলগ্ন সংকীর্ণ পথ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে ফিরে আসে। পরে আবার যাত্রা শুরু করে এবং নিজের বার্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে জানাতে থাকে যে জাহাজটির মালিক ও ক্রুরা চীনা নাগরিক।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি একটি কৌশলগত বার্তা—কারণ বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল আমদানিকারক দেশের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়াতে যুক্তরাষ্ট্র কতটা আগ্রহী, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধ ঘোষণা করার পর থেকেই বিশ্বব্যাপী শিপিং খাত ও জ্বালানি ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। অবরোধের সুনির্দিষ্ট নিয়ম এখনো পরিষ্কার না হওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের জাহাজ চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছে।
মূলত ইরান-এর তেল রপ্তানি সীমিত করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে চীনের মতো শক্তিশালী দেশের জাহাজ যখন প্রকাশ্যে এই নিষেধাজ্ঞা অগ্রাহ্য করছে, তখন পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র এই ট্যাঙ্কারটি আটকানোর চেষ্টা করে, তাহলে চীন-এর সঙ্গে নতুন করে কূটনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা তৈরি হতে পারে। আবার যদি কোনো ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে অবরোধের কার্যকারিতা নিয়েই প্রশ্ন উঠবে।
সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালি এখন বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ স্নায়ুযুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।