.
আন্তর্জাতিক

ভাইরাল হতেই বন্ধ ‘ককরোচ জনতা পার্টি’: মোদি সরকারের চাপের অভিযোগ প্রতিষ্ঠাতার

Email :1

ভারতের সামাজিক মাধ্যমে ঝড় তোলা ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন “ককরোচ জনতা পার্টি” বা সিজেপিকে ঘিরে এবার তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক।
মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই কোটি কোটি অনুসারী অর্জনের পর হঠাৎ করেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে দলটির ওয়েবসাইট।
আর এ ঘটনায় সরাসরি মোদি সরকারের বিরুদ্ধে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ তুলেছেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপক।
অভিজিৎ দিপক জানান, শুধু ওয়েবসাইট নয়, এর আগেই ভারতের ভেতরে সিজেপির অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্ট ব্লক করা হয়েছিল।
এছাড়া তাঁর ব্যক্তিগত ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টেও একাধিকবার হ্যাকিংয়ের চেষ্টা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
শনিবার এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন,
“সিজেপির আইকনিক ওয়েবসাইট সরিয়ে ফেলা হয়েছে।”
তবে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
মূলত “ককরোচ জনতা পার্টি” ছিল একটি ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন আন্দোলন, যার নাম তৈরি করা হয়েছিল বিজেপির নামের সঙ্গে মিল রেখে।
এই আন্দোলনের সূচনা হয় ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের এক বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে।
খবরে বলা হয়, তিনি বেকার তরুণদের একাংশকে “তেলাপোকা” বা “ককরোচ” এর সঙ্গে তুলনা করেছিলেন।
যদিও পরে তিনি ব্যাখ্যা দেন, তাঁর মন্তব্য তরুণদের উদ্দেশে নয়, বরং ভুয়া ডিগ্রিধারীদের সমালোচনা ছিল।
কিন্তু ততক্ষণে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়ে যায় তীব্র প্রতিক্রিয়া।
ভারতের অনেক তরুণ এই মন্তব্যকে অপমান হিসেবে দেখেন।
আর সেই ক্ষোভ থেকেই অভিজিৎ দিপক ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক প্রতিবাদের রূপে চালু করেন “ককরোচ জনতা পার্টি”।
অবিশ্বাস্য হলেও সত্য—
শুরু হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই ইনস্টাগ্রামে সিজেপির অনুসারী সংখ্যা ২ কোটির বেশি ছাড়িয়ে যায়।
এমনকি এটি বিজেপির অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার সংখ্যাকেও পেছনে ফেলে দেয় বলে দাবি করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সিজেপি শুধু একটি মিমভিত্তিক আন্দোলন ছিল না।
এটি ছিল ভারতের তরুণ সমাজের হতাশা, বেকারত্ব, শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ এবং রাজনৈতিক অসন্তোষের প্রতীক।
সামাজিক মাধ্যমে ব্যঙ্গ, ট্রল, মিম এবং প্রতিবাদের মিশেলে তৈরি হওয়া এই আন্দোলন অল্প সময়েই ভারতের অনলাইন রাজনৈতিক আলোচনার বড় অংশ হয়ে ওঠে।
এখন প্রশ্ন উঠছে—
সিজেপির ওয়েবসাইট বন্ধ হয়ে গেলেও, এই আন্দোলনের পেছনের ক্ষোভ কি থেমে যাবে?
নাকি এটি আরও বড় কোনো ডিজিটাল প্রতিবাদের সূচনা?

Related Tag:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts