
ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে চলমান ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপির বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিজেপি এবং আরএসএস এই আন্দোলনের পেছনে বিদেশি শক্তির সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে একে ভারতের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হিসেবে বর্ণনা করেছে।
বিজেপির সাধারণ সম্পাদক তরুণ চুঘ দাবি করেছেন, কিছু বিদেশি শক্তি এবং দেশের ভেতরের কয়েকটি রাজনৈতিক গোষ্ঠী মিলে তরুণ প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। তার অভিযোগ, দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা বাধাগ্রস্ত করতেই এ ধরনের আন্দোলনকে উসকে দেওয়া হচ্ছে।
আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। বিজেপি নেতাদের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করার পর দেশে ফিরে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এ বিষয়টিকেই বিদেশি প্রভাবের অন্যতম প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরছে ক্ষমতাসীন দল।
অন্যদিকে আন্দোলনকারীরা বলছেন, নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ শিক্ষা খাতের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদেই তারা রাজপথে নেমেছেন। তাদের দাবি, এটি কোনো রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র নয়; বরং শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার আন্দোলন।
বিক্ষোভে ছাত্রছাত্রী, চাকরিপ্রার্থী, অভিভাবক এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের সদস্যদের অংশগ্রহণ দেখা গেছে। ফলে আন্দোলনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গণ্ডি পেরিয়ে জাতীয় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
তবে বিজেপির মূল্যায়ন অনুযায়ী, এই আন্দোলন বড় কোনো রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হবে না। দলটির নেতারা মনে করছেন, নির্বাচনী রাজনীতিতে ব্যর্থ কিছু গোষ্ঠী বিষয়টিকে অতিরঞ্জিত করে তুলে ধরছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিও সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে সরকারপক্ষ।
এদিকে আরএসএস-ঘনিষ্ঠ বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে আন্দোলনকারীদের কিছু কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তাদের দেশপ্রেম, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য এবং ব্যবহৃত স্লোগান নিয়েও চলছে তুমুল বিতর্ক।
ভারতের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, শিক্ষা খাতের সংকট, তরুণদের অসন্তোষ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক নতুন ধরনের আন্দোলনের উত্থান আগামী দিনে দেশটির রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। আর সেই কারণেই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ এখন শুধু একটি আন্দোলনের নাম নয়, বরং জাতীয় রাজনীতির আলোচিত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।