.
আন্তর্জাতিক

ভারত থেকে পাকিস্তান: ভাইরাল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’

Email :1

সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে একটি ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন কখন যে আন্তর্জাতিক আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে, তা হয়তো কেউ কল্পনাও করেনি।
ভারতে শুরু হওয়া ভাইরাল “ককরোচ জনতা পার্টি” বা সিজেপি এখন ছড়িয়ে পড়েছে পাকিস্তানেও। আর এই ঘটনাকে ঘিরে দক্ষিণ এশিয়ার অনলাইন রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে নতুন এক ট্রেন্ড।
পাকিস্তানের সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন দেখা যাচ্ছে একের পর এক নতুন পেজ ও রাজনৈতিক ব্যঙ্গধর্মী অ্যাকাউন্ট।
যেমন— “ককরোচ আওয়ামী পার্টি”, “ককরোচ আওয়ামী লীগ” এবং “মুত্তাহিদা ককরোচ মুভমেন্ট”।
এসব নামের মধ্যেই লুকিয়ে আছে তীব্র ব্যঙ্গ, হতাশা এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি তরুণদের ক্ষোভ।
“ককরোচ আওয়ামী পার্টি” নামের একটি অ্যাকাউন্ট নিজেদের পরিচয় দিয়েছে—
“যুবদের দ্বারা, যুবদের জন্য পাকিস্তানের একটি রাজনৈতিক ফ্রন্ট” হিসেবে।
আরেকটি অ্যাকাউন্ট লিখেছে—
“যাদের সিস্টেম ককরোচ ভেবেছে, আমরা সেই জনগণের কণ্ঠস্বর।”
মূলত ভারতের আন্দোলনের লোগো থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে পাকিস্তানি সংস্করণগুলো তৈরি করা হলেও, সেখানে যুক্ত করা হয়েছে সবুজ-সাদা রঙের আলাদা পরিচয়।
যা দেশটির বড় রাজনৈতিক দলগুলোর বাইরে নতুন ধরনের প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
এই পুরো আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল ভারতে।
এর প্রতিষ্ঠাতা ৩০ বছর বয়সী ভারতীয় ছাত্র অভিজিৎ দিপকে, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের বস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন।
তিনি আগে আম আদমি পার্টির রাজনৈতিক যোগাযোগ কৌশলবিদ হিসেবেও কাজ করেছেন।
ঘটনার শুরু একটি বিতর্কিত মন্তব্য থেকে।
ভারতের প্রধান বিচারপতি সুর্য কান্ত এক শুনানিতে কিছু বেকার যুবক ও পেশাজীবীকে “ককরোচ” এবং “পরজীবী” বলে উল্লেখ করেন।
যদিও পরে তিনি ব্যাখ্যা দেন, তিনি মূলত ভুয়া ডিগ্রি ব্যবহারকারীদের কথা বোঝাতে চেয়েছিলেন।
কিন্তু ততক্ষণে শব্দটি সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন প্রতিবাদের প্রতীকে পরিণত হয়ে যায়।
মজার বিষয় হলো— এটি কোনো আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক দল নয়।
তবুও “ককরোচ জনতা পার্টি” ইনস্টাগ্রামে অল্প সময়েই ২ কোটির বেশি অনুসারী অর্জন করেছে।
যা প্রমাণ করে, তরুণদের মধ্যে ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক কনটেন্ট কতটা দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি শুধু মিম বা ট্রল নয়।
বরং দক্ষিণ এশিয়ার তরুণদের হতাশা, বেকারত্ব, রাজনৈতিক অবিশ্বাস এবং সামাজিক ক্ষোভ এখন হাস্যরসের মোড়কে প্রকাশ পাচ্ছে।
প্রশ্ন হলো—
এই “ককরোচ আন্দোলন” কি শুধুই অনলাইন ট্রেন্ড হয়ে থাকবে, নাকি ভবিষ্যতে এটি বাস্তব রাজনৈতিক বার্তায় রূপ নেবে?

Related Tag:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts