.
আন্তর্জাতিক

ইসলামাবাদে যুদ্ধবিরতি আলোচনা—কোন কোন শর্তে মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান?

Email :1

পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধবিরতি আলোচনা ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাড়ছে কৌতূহল। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera জানিয়েছে, এই আলোচনায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর ইস্যু উঠে আসতে যাচ্ছে।

রাজধানী Islamabad-এ অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠকের আগে থেকেই শর্তের পাল্টাপাল্টি অবস্থান নিয়েছে দুই পক্ষ। Iran জানিয়েছে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত না হলে এবং তাদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল না করা হলে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করা সম্ভব নয়। তবে এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগেই দুই দেশের প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদে পৌঁছে গেছে।

লেবাননের পরিস্থিতি এই আলোচনার অন্যতম প্রধান ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। ইরানের দাবি, সেখানে চলমান সংঘাতে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে, তাই যুদ্ধবিরতি অপরিহার্য। কিন্তু United States ও Israel মনে করছে, লেবাননের বিষয়টি এই আলোচনার অংশ নয়—যা নিয়ে মতবিরোধ আরও গভীর হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক চাপও বড় একটি আলোচ্য বিষয়। ইরান চায় তাদের জব্দকৃত অর্থ ফেরত দেওয়া হোক এবং দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হোক। অন্যদিকে ওয়াশিংটন ইঙ্গিত দিয়েছে, পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা আনলে কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হতে পারে।

এছাড়া কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিয়েও রয়েছে বিরোধ। Iran এই প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ও টোল আদায়ের অধিকার চায়, কিন্তু United States চায় সম্পূর্ণ অবাধ নৌ চলাচল।

যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করার বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও এ বিষয়ে এখনো স্পষ্ট অবস্থান জানায়নি যুক্তরাষ্ট্র।

অন্যদিকে, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়েও রয়েছে বড় মতবিরোধ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের সামরিক সক্ষমতা সীমিত করতে চাইলেও ইরান এটিকে তাদের নিরাপত্তার অংশ হিসেবে দেখছে এবং আলোচনার বাইরে রাখতে চায়।

সবশেষে, Iran মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি প্রত্যাহার এবং সব ধরনের আগ্রাসন বন্ধের নিশ্চয়তা চাইছে। বিপরীতে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump জানিয়েছেন, শান্তিচুক্তি না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখবে এবং প্রয়োজন হলে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

সব মিলিয়ে, এই আলোচনা শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়—বরং এটি পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এখন দেখার বিষয়, এত শর্ত আর মতবিরোধের মধ্যেও কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয় কিনা।

Related Tag:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts