মানবপাচার আইনের একটি মামলায় গ্রেফতার হওয়া এক-এগারোর সময়ের আলোচিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী আবারও আলোচনায় উঠে এসেছেন। আদালত তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক ও জনমনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ শুনানি শেষে এই রিমান্ড আদেশ দেন। এর আগে সোমবার রাতে রাজধানীর বারিধারা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে তাকে পল্টন থানায় দায়ের করা মানবপাচারের একটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে বর্তমানে মোট ১১টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ফেনী জেলায় ছয়টি এবং ঢাকা মহানগর এলাকায় পাঁচটি মামলা রয়েছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের এক-এগারো রাজনৈতিক পটপরিবর্তন সময়ে তিনি সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশনের জিওসি ছিলেন এবং সে সময়ের ক্ষমতার পরিবর্তনের ঘটনায় তাকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পরে তিনি গুরুতর অপরাধ দমনসংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটির সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন এবং পদোন্নতি পেয়ে লেফটেন্যান্ট জেনারেল হন।
২০০৮ সালে তাকে অস্ট্রেলিয়াতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। চাকরি শেষে অবসরে গিয়ে তিনি বিভিন্ন ব্যবসায় যুক্ত হন এবং পরে জাতীয় পার্টির মনোনয়নে ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
সাম্প্রতিক এই গ্রেফতার ও রিমান্ড আদেশের ফলে তার রাজনৈতিক জীবন ও অতীত কর্মকাণ্ড আবারও জনমনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। মামলার তদন্তে কী তথ্য বেরিয়ে আসে এবং এর আইনি পরিণতি কী দাঁড়ায়—এখন সেদিকেই নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল ও সাধারণ মানুষের।