
রাজধানীর পল্লবীতে ঘটে যাওয়া ছোট্ট শিশু রামিসা আক্তার হত্যাকাণ্ড যেন পুরো দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে।
একটি সকাল… একটি দরজা… আর দরজার ওপাশে ঘটে চলা এক ভয়াবহ নির্মমতা।
মঙ্গলবার সকালে রামিসাকে স্কুলে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল তার পরিবার। কিন্তু হঠাৎ করেই তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। খোঁজ করতে করতে তার মা পৌঁছে যান পাশের ফ্ল্যাটের সামনে। সেখানে পড়ে থাকতে দেখেন ছোট্ট রামিসার স্যান্ডেল।
সন্দেহ হওয়ায় দরজায় বারবার কড়া নাড়েন তিনি। কিন্তু ভেতর থেকে দরজা খোলা হচ্ছিল না। পরে জানা যায়, ঠিক সেই সময়েই ফ্ল্যাটের ভেতরে চলছিল হত্যাকাণ্ড।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না মাত্র দুই মাস আগে ওই ভবনের উল্টো দিকের ফ্ল্যাটে ভাড়া ওঠেন। তদন্তকারীদের ধারণা, শিশুটি বিকৃত যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিল। বিষয়টি প্রকাশ হয়ে পড়ার আশঙ্কায় তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।
সবচেয়ে ভয়ঙ্কর তথ্য হলো— হত্যার পর আলামত গোপন করতে শিশুটির মাথা ও হাত বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করা হয়। পুলিশ বলছে, মূল অভিযুক্তকে পালানোর সুযোগ করে দিতেই স্ত্রী স্বপ্না দীর্ঘ সময় দরজা বন্ধ রেখেছিলেন।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ময়নাতদন্ত ও কেমিক্যাল পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর পুরো ঘটনার আরও বিস্তারিত নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোক আর আতঙ্ক।
প্রতিবেশীরা বলছেন, তারা কখনও কল্পনাও করেননি যে পাশের ফ্ল্যাটে এমন ভয়াবহ ঘটনা ঘটতে পারে।
রামিসার ছোট্ট জীবন থেমে গেছে নির্মমতার কাছে।
আর এই ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলেছে—
শিশুরা কি সত্যিই নিরাপদ?