১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি সকাল ১০:২৭ সোমবার বসন্তকাল
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য নিজেদের প্রাথমিক রণকৌশল উন্মোচন করল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। সোমবার (৩ নভেম্বর) গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয় থেকে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক সংবাদ সম্মেলনে ২৩৭টি আসনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেন, যা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র নাড়া দিয়েছে।
এই তালিকার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সরাসরি অংশগ্রহণ। চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ফেনী-১, বগুড়া-৭ ও দিনাজপুর-৩—এই তিনটি আসন থেকে এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-৬ আসন থেকে নির্বাচনে লড়বেন বলে জানানো হয়েছে। এই পদক্ষেপকে দলের তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের উজ্জীবিত করার একটি শক্তিশালী প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজেও তার আসন ঠাকুরগাঁও-১ থেকে প্রার্থী হচ্ছেন, যা দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে নির্বাচনী লড়াইয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার স্পষ্ট বার্তা বহন করছে।
প্রার্থী তালিকায় শুধু দলের সিনিয়র হেভিওয়েট নেতারাই নন, বরং অনেক নতুন মুখ এবং বিভিন্ন জেলার জনপ্রিয় নেতাদের স্থান দিয়ে একটি কৌশলগত ভারসাম্য তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, সিলেটের চারটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির (সিলেট-১), তাহসিনা রুশদী লুনা (সিলেট-২), এম এ মালিক (সিলেট-৩) এবং এমরান আহমদ চৌধুরী (সিলেট-৬) কে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, যা থেকে বোঝা যায় দলটি অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের খুঁজছে।
তবে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৩৭টি আসনে প্রার্থী ঘোষণার মাধ্যমে বিএনপি জোটের রাজনীতির সমীকরণও স্পষ্ট করেছে। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাকি আসনগুলো নিয়ে শরিক দলগুলোর সঙ্গে সমন্বয় চলছে এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে তাদের জন্য বেশ কিছু আসন ছেড়ে দেওয়া হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বিএনপি একদিকে যেমন নিজেদের সাংগঠনিক শক্তির জানান দিল, তেমনই জোটগত ঐক্যের প্রতিও নিজেদের יবদ্ধতা প্রকাশ করল।
এই প্রাথমিক তালিকা ঘোষণাকে বিএনপির আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রস্তুতির প্রথম ধাপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এখন সব চোখ থাকবে শরিকদের সঙ্গে আসন বণ্টনের চূড়ান্ত আলোচনার দিকে, যার ওপর ভিত্তি করে বিএনপির নির্বাচনী যাত্রার গতিপথ নির্ধারিত হবে। নিঃসন্দেহে, এই ঘোষণা আগামী দিনের রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ ছড়াবে।
Analysis | Habibur Rahman


