১৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ২রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৫ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি রাত ১২:০৭ মঙ্গলবার গ্রীষ্মকাল
আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার বোঝা এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকট যখন চরমে, ঠিক তখনই পরমাণু চুক্তি নিয়ে আলোচনার টেবিলে বসতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছে ইরান। আমেরিকার দেওয়া কঠোর শর্ত প্রত্যাখ্যান করে তেহরান স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—‘আমাদের তাড়া নেই’। কিন্তু প্রশ্ন হলো, প্রবল চাপের মুখেও ইরানের এই আত্মবিশ্বাসের উৎস কোথায়? এর পেছনে কাজ করছে মধ্যপ্রাচ্য-এর বদলে যাওয়া ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং ইরানের ধৈর্যশীল কূটনীতি।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি साफ জানিয়ে দিয়েছেন, একতরফা শর্তের ভিত্তিতে কোনো আলোচনা সম্ভব নয়। আমেরিকার পক্ষ থেকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধিকরণ সম্পূর্ণ বন্ধ করা, মিসাইল কর্মসূচিতে লাগাম টানা এবং আঞ্চলিক মিত্রদের থেকে দূরত্ব তৈরির মতো দাবিগুলোকে অযৌক্তিক ও অসম্মানজনক বলে মনে করছে ইরান। তাদের ভাষ্য, এই নিষেধাজ্ঞা দিয়ে তাদের নতজানু করা যাবে না, বরং আলোচনার জন্য প্রয়োজন পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তি।
ইরানের এই দৃঢ়তার পেছনে মূল কারণ হলো, তারা মনে করছে মধ্যপ্রাচ্য-এর রাজনৈতিক হাওয়া এখন তাদের অনুকূলে বইতে শুরু করেছে। তেহরানের কূটনীতিকরা বিশ্বাস করেন, এই অঞ্চলের দেশগুলো এখন ইরানের চেয়ে ইসরায়েলকে নিজেদের প্রধান নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে দেখতে শুরু করেছে। এই পরিবর্তনকে পুঁজি করেই ইরান একটি ধৈর্যশীল কূটনৈতিক খেলা খেলছে, যেখানে সময় তাদের পক্ষে থাকবে বলে তারা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী। তেহরানের ধারণা, তাড়াহুড়ো করে আমেরিকার শর্ত মেনে নিলে দীর্ঘমেয়াদে তাদের কৌশলগত ক্ষতি হবে।
ওমানের মতো মধ্যস্থতাকারীর উদ্যোগে অতীতে আলোচনার বরফ গললেও, আমেরিকার নতুন শর্ত আরোপের ফলে সব প্রচেষ্টা থমকে গেছে। বর্তমানে পরমাণু চুক্তি নিয়ে আলোচনা এক ধরনের শূন্যে ঝুলছে, কারণ দুই পক্ষই নিজ নিজ অবস্থানে অনড়।
সুতরাং, পরিস্থিতি এখন একটি স্নায়ুযুদ্ধের মতো, যেখানে দুই পক্ষই প্রতিপক্ষের ভুলের জন্য অপেক্ষা করছে। ইরান আলোচনার দরজা খোলা রাখলেও, সেই দরজা দিয়ে প্রবেশের চাবিকাঠি এখন ওয়াশিংটনের হাতে—তবে তা হতে হবে তেহরানের দেওয়া সমতার শর্ত মেনেই। এই জটিল কূটনীতির খেলায় শেষ পর্যন্ত কোন পক্ষ জয়ী হবে, তা সময়ই বলে দেবে।
Analysis | Habibur Rahman

