.
বাংলাদেশ

মাত্র একটি ভিডিওর জন্য সন্ত্রাস আইনে গ্রেপ্তার ১৯ বছরের ফাইজা! কী ছিল সেই ভিডিওতে?

Email :147
শেখ মিফতা ফাইজাছবি: সংগৃহীত 📷 Image Source: Prothom Alo

১৫ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৬ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি রাত ২:৩৫ রবিবার শরৎকাল

রাজশাহীর রাজপথ থেকে আদালতের কাঠগড়া—মাত্র একটি ফেসবুক ভিডিওকে কেন্দ্র করে ১৯ বছর বয়সী এক তরুণীর জীবন মোড় নিয়েছে অভাবনীয় দিকে। জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের সামনে দাঁড়িয়ে করা একটি ভিডিও পোস্টের জেরে শেখ মিফতা ফাইজা নামের ওই তরুণীকে এখন দেশের অন্যতম কঠোর আইন—সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় বিচারের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

ঘটনার কেন্দ্রে রয়েছে রাজশাহীর সিঅ্যান্ডবি মোড়ে অবস্থিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’। সম্প্রতি শেখ মিফতা ফাইজা নামের ওই তরুণী স্মৃতিস্তম্ভটির সামনে দাঁড়িয়ে জুলাই আন্দোলন ও এর যোদ্ধাদের উদ্দেশ্য করে তীব্র আপত্তিকর ও আক্রমণাত্মক মন্তব্য সম্বলিত একটি ভিডিও ধারণ করেন। বিতর্ক আরও উস্কে দেয় ভিডিওতে শেখ হাসিনার ছবি প্রদর্শন করে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার দৃশ্যটি। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে আসে।

মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ২৫ অক্টোবর প্রাথমিক অভিযান শুরু করলে ফাইজা আত্মগোপন করেন। তবে সোমবার রাতে জেলার গোদাগাড়ী থানার পাকড়ী গোয়ালপাড়া এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়। পুলিশের দাবি, এটি শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ভিডিওর ঘটনা নয়। ফাইজার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মেসেজিং অ্যাপের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে তারা রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডের সম্পৃক্ততার আলামত পেয়েছে।

তদন্তে উঠে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশ জানিয়েছে, ফাইজা নিজেকে ‘নিষিদ্ধঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগ’ নামে একটি সংগঠনের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এ কথা স্বীকারও করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি এই সংগঠনের পক্ষে নিয়মিত পোস্ট ও ভিডিও শেয়ার করতেন এবং বিভিন্ন অনলাইন গ্রুপে সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন, যা জননিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে মনে করছে পুলিশ।

বর্তমানে ফাইজা পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে রাজপাড়া থানায় দায়েরকৃত সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছে পুলিশ। ১৯ বছর বয়সী এক তরুণীর একটি অনলাইন কর্মকাণ্ড যেভাবে তাঁকে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ববিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে অভিযুক্ত করলো, তা নিয়ে রাজশাহীর সুধীমহলসহ দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও প্রশ্ন। একটি ভিডিও পোস্টের পরিণতি এতটা ভয়াবহ হতে পারে কি না, সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে।

Analysis | Habibur Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts