.
বাংলাদেশ

শেখ হাসিনাকে ট্রাইব্যুনালে নিলেন গুম হওয়া ছাত্রদল নেতা! এরপর কী হবে? | ICT Case | BD Politics

Email :94

১৬ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ৩১শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৭ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি রাত ১০:২২ সোমবার শরৎকাল

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নজিরবিহীন অধ্যায়ের সূচনা হলো সোমবার। দু-দুবার গুম ও অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার ভয়ঙ্কর অভিযোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) দ্বারস্থ হয়েছেন বাংলাদেশ ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান আশিক। তার দায়ের করা অভিযোগে অভিযুক্তদের তালিকায় উঠে এসেছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার সরকারের সময়ের নিরাপত্তা ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নাম, যা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

সোমবার (৩ নভেম্বর) ট্রাইব্যুনালে সশরীরে হাজির হয়ে আশিক তার জীবনের বিভীষিকাময় দুটি ঘটনার বর্ণনা দিয়ে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, ২০১৩ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে চলমান রাজনৈতিক আন্দোলনের সময় ঢাকার মিরপুর থেকে তাকে অজ্ঞাত পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর টানা দুই মাস তাকে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে বৈদ্যুতিক শকসহ নানা ধরনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। আশিকের দাবি, এখানেই তার দুর্ভোগের শেষ হয়নি। ২০২২ সালে তিনি পুনরায় গুমের শিকার হন।

তার দায়ের করা এই বিস্ফোরক অভিযোগে মোট সাতজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, যাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) সাবেক মহাপরিচালক মোখলেসুর রহমান, সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান এবং কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আসাদুজ্জামান। অভিযুক্তদের তালিকায় যাদের নাম এসেছে, তারা প্রত্যেকেই বিগত সরকারের ক্ষমতাকাঠামোর শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন।

ট্রাইব্যুনালের সামনে আশিক তার ওপর চালানো নির্যাতনের যে বর্ণনা দেন, তা রীতিমতো লোমহর্ষক। তিনি জানান, গুম থাকা অবস্থায় র‍্যাব ও সিটিটিসির সদস্যরা তার ওপর এমন নির্যাতন চালিয়েছে যা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। তিনি তার অভিযোগের সপক্ষে বিভিন্ন প্রমাণাদিও ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করেছেন বলে দাবি করেন।

এখন পুরো জাতির দৃষ্টি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দিকে। মূলত ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য গঠিত এই ট্রাইব্যুনাল কি এই ধরনের অভিযোগকে তার এখতিয়ারভুক্ত মনে করে আমলে নেবে? এই ঘটনাটি নিছক একজন ব্যক্তির বিচার চাওয়ার আবেদন নয়, বরং এটি দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের বিতর্ককে নতুন করে উস্কে দিয়েছে। আশিকের এই আইনি লড়াই যদি সামান্যতমও অগ্রসর হয়, তবে তা বাংলাদেশের রাজনীতি ও বিচার ব্যবস্থায় এক নতুন এবং সুদূরপ্রসারী অধ্যায়ের জন্ম দিতে পারে।

Analysis | Habibur Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts