
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শুধু জ্বালানি নয়, এবার সরাসরি হুমকির মুখে পড়েছে বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম Al Jazeera-এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে—এই সংকট দ্রুত সমাধান না হলে তা বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে।
এই বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে United Nations Office for Project Services (UNOPS)। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক জর্জ মোরেইরা দা সিলভা সতর্ক করে বলেছেন, যদি দীর্ঘ সময় ধরে এই রুট বন্ধ থাকে, তাহলে বিশ্বব্যাপী কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
কিন্তু কেন এত বড় প্রভাব?
হরমুজ প্রণালি শুধু তেল পরিবহনের পথ নয়—এটি বৈশ্বিক বাণিজ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ লাইফলাইন। এই পথ দিয়েই সার উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল বিশ্বজুড়ে সরবরাহ করা হয়। ফলে এই রুট বন্ধ হয়ে যাওয়ার অর্থ হচ্ছে—সার উৎপাদন ব্যাহত, সরবরাহ শৃঙ্খল ভেঙে পড়া, আর বাজারে দামের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে কৃষিতে—ফসল উৎপাদন কমে যাবে, এবং তার ফলাফল হিসেবে খাদ্য সংকট আরও তীব্র হবে।
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে উন্নয়নশীল ও নিম্ন-আয়ের দেশগুলো। কারণ এসব দেশের কৃষি উৎপাদন অনেকাংশে আমদানিকৃত সারের ওপর নির্ভরশীল। সরবরাহ বন্ধ বা দাম বৃদ্ধি—দুই ক্ষেত্রেই তাদের জন্য পরিস্থিতি হয়ে উঠতে পারে ভয়াবহ।
এই সংকট শুধু অর্থনীতির নয়, এটি মানবিক সংকটেও রূপ নিতে পারে। লক্ষ লক্ষ মানুষ খাদ্য সংকটে পড়তে পারে, এমনকি দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে—এমন আশঙ্কাই করছে জাতিসংঘ।
এই প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক মহলকে দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ-চলাচল পুনরুদ্ধার করা যায়।
সবশেষে প্রশ্নটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ—
একটি সমুদ্রপথ বন্ধ হওয়া কি পুরো বিশ্বের খাবারের থালা খালি করে দিতে পারে?
বর্তমান পরিস্থিতি বলছে—উত্তরটা “হ্যাঁ” হওয়ার ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে