
চীন সফর শেষে ওয়াশিংটনে ফেরার আগে এক বিস্ময়কর পদক্ষেপ নিয়েছে মার্কিন প্রতিনিধি দল। নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে চীনা কর্মকর্তাদের দেওয়া সব ধরনের উপহার ও সামগ্রী বিমানবন্দরের ডাস্টবিনে ফেলে দিয়েছেন হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে ও ইকোনমিক টাইমস-এর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই তথ্য।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেইজিং সফর শেষে এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার আগে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা চীনের দেওয়া বার্নার ফোন, পরিচয়পত্র, ব্যাজ, প্রেস আমন্ত্রণপত্র এবং বিভিন্ন স্মারক সামগ্রী নিজেদের সঙ্গে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এমনকি এসব জিনিস সরাসরি বিমানবন্দরের ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া হয়।
হোয়াইট হাউসের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, চীনা উৎস থেকে পাওয়া কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস বা সামগ্রী বিমানে নেওয়ার অনুমতি ছিল না। কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে সম্ভাব্য গুপ্তচরবৃত্তি, ট্র্যাকিং এবং সাইবার নজরদারির আশঙ্কা।
নিউইয়র্ক পোস্টের হোয়াইট হাউস সংবাদদাতা এমিলি গডিন সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, সফরের সময় পাওয়া সব চীনা সামগ্রী নিরাপত্তা বিভাগের নির্দেশে সংগ্রহ করে ফেলে দেওয়া হয়েছে। সিক্রেট সার্ভিস ও হোয়াইট হাউস নিরাপত্তা বিভাগ পুরো প্রক্রিয়াটি কঠোরভাবে তদারকি করে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের প্রযুক্তিগত ও গোয়েন্দা উত্তেজনার প্রতিফলনই এই ঘটনা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের মধ্যে সাইবার হামলা, নজরদারি প্রযুক্তি এবং গুপ্তচরবৃত্তি নিয়ে একাধিক অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ সামনে এসেছে।
ওয়াশিংটনে ফেরার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “আমরাও তাদের ওপর ব্যাপকভাবে গুপ্তচরবৃত্তি করি।” তার এই মন্তব্য নতুন করে দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ঘটনা শুধু কূটনৈতিক অবিশ্বাসই নয়, বরং বিশ্ব রাজনীতিতে প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা যুদ্ধ কতটা গভীর হয়েছে, সেটিও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।