৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৮শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি সকাল ১১:৫৫ শুক্রবার গ্রীষ্মকাল
কিশোরগঞ্জের ভৈরব জংশন এলাকায় দীর্ঘ ৯ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর অবশেষে স্বাভাবিক হয়েছে দেশের পূর্বাঞ্চলের রেল যোগাযোগ। ‘ঢাকা মেইল’ ট্রেনের একটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় আজ মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-নোয়াখালী এবং ভৈরব-ময়মনসিংহ রুটে পুনরায় ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। এর আগে সোমবার গভীর রাতে দুর্ঘটনার পর থেকে এসব রুটে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সোমবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ‘ঢাকা মেইল’ (২ ডাউন) ট্রেনটি ভৈরব স্টেশন অতিক্রম করার সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। স্টেশনের খুব কাছেই ট্রেনটির একটি বগি হঠাৎ লাইনচ্যুত হয়ে যায়। গভীর রাতে ঘটা এই দুর্ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর না পাওয়া গেলেও রেলপথে বড় ধরনের বিপত্তি সৃষ্টি হয়। লাইন অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় রাত ৩টার পর থেকে ভৈরব স্টেশন দিয়ে কোনো ট্রেন আসা-যাওয়া করতে পারেনি।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আখাউড়া জংশন থেকে একটি উদ্ধারকারী ট্রেন (রিলিফ ট্রেন) ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। উদ্ধারকারী দল আজ মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টার নিরলস প্রচেষ্টার পর দুপুর সোয়া ১২টার দিকে লাইনচ্যুত বগিটি সরিয়ে লাইনটি ট্রেন চলাচলের উপযোগী করা হয়।
ভৈরব স্টেশন সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ সময় রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন হাজারো যাত্রী। দুর্ঘটনাকবলিত লাইনের কারণে ঢাকাগামী আন্তনগর পারাবত এক্সপ্রেস, উপবন এক্সপ্রেস ও তিতাস কমিউটারসহ বেশ কয়েকটি মেইল ট্রেন পেছনের বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়ে। বিশেষ করে ভৈরব স্টেশনেই আটকা পড়ে ময়মনসিংহ থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী ‘বিজয় এক্সপ্রেস’ এবং ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্রেন দাঁড়িয়ে থাকায় যাত্রীদের, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করতে হয়।
সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশনমাস্টার মো. ইউসুফ জানান, উদ্ধারকাজ সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। দীর্ঘক্ষণ লাইন বন্ধ থাকায় বিভিন্ন স্টেশনে আটকে থাকা গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনগুলোকে এখন পর্যায়ক্রমে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে এই দুর্ঘটনার প্রভাবে ট্রেনের সময়সূচিতে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে এবং প্রতিটি ট্রেনের যাত্রাই কয়েক ঘণ্টা করে বিলম্বিত হবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
Analysis | Habibur Rahman