
নেপালের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে হঠাৎ করেই বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ব্যাপক সমালোচনা, অভিযোগ এবং তদন্তের চাপের মুখে পদত্যাগ করেছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Sudan Gurung।
বুধবার এক ফেসবুক বার্তার মাধ্যমে তিনি নিজেই পদত্যাগের ঘোষণা দেন। এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে মাত্র এক মাসের মাথায় তার মন্ত্রিত্বের ইতি ঘটলো, যা দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন প্রশ্ন ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সম্প্রতি গুরুংয়ের বিরুদ্ধে গুরুতর কিছু অভিযোগ সামনে আসে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বিতর্কিত ব্যবসায়ী Deepak Bhatta-র সঙ্গে তার ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে। পাশাপাশি তার প্রতিষ্ঠিত এনজিও ‘Hami Nepal’-এর অর্থের উৎস নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এসব অভিযোগ প্রকাশের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে চাপ বাড়তে থাকে।
বিশেষ করে তরুণদের আন্দোলনভিত্তিক ‘জেন-জে’ মুভমেন্টসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তার পদত্যাগের দাবি জোরালোভাবে তোলে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে, শেষ পর্যন্ত নিজেই পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন গুরুং।
পদত্যাগপত্রে তিনি জানান, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে এবং কোনো ধরনের স্বার্থের সংঘাত এড়াতে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার এই পদক্ষেপকে কেউ কেউ দায়িত্বশীল বলে দেখলেও, সমালোচকদের মতে এটি চাপের মুখে নেওয়া একটি বাধ্যতামূলক সিদ্ধান্ত।
এদিকে নেপালের প্রধানমন্ত্রী Balendra Shah আপাতত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিজের হাতে রেখেছেন। ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার সরাসরি তদারকির পথে হাঁটছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, Sudan Gurung খুব অল্প সময়ের মধ্যেই রাজনীতিতে উঠে এসেছিলেন। ২০২৫ সালের তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনের মাধ্যমে তিনি পরিচিতি পান এবং মার্চ মাসে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ২৭ মার্চ তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
কিন্তু দায়িত্ব গ্রহণের এক মাসের মধ্যেই আর্থিক অসততার অভিযোগে পদত্যাগ করতে হওয়ায় তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে।
এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল—জনপ্রিয়তা অর্জন যত দ্রুত সম্ভব, তা ধরে রাখা ততটাই কঠিন। বিশেষ করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্নে কোনো ছাড় না দিলে রাজনীতিতে টিকে থাকা আরও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।