
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট…
আর সেই পোস্টের জের ধরে আবারও হামলার শিকার এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী।
ঘটনাটি খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বা কুয়েটের শিক্ষার্থী জাহিদুর রহমানকে ঘিরে।
অভিযোগ উঠেছে, রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে ফেসবুকে লেখালেখি করায় এবার তাকে মারধর করেছেন যুবদল ও সাবেক ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা-কর্মী।
ঘটনাটি ঘটেছে খুলনার ফুলবাড়িগেট এলাকায়।
জাহিদুর রহমান কুয়েটের ইলেকট্রনিক অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী।
তিনি জানান, পরীক্ষা শেষে ঈদে বাড়ি ফেরার জন্য বাস কাউন্টারে টিকিট কাটতে গিয়েছিলেন।
সেখানেই কয়েকজন তাকে ঘিরে ধরে।
অভিযোগ অনুযায়ী, খানজাহান আলী থানা ছাত্রদলের সাবেক নেতা শুভসহ কয়েকজন প্রথমে তার মোবাইল ফোন নিয়ে তল্লাশি চালায়।
পরে স্থানীয় যুবদল নেতা মাসুম খান ঘটনাস্থলে এসে কাঠের তক্তা দিয়ে তাকে মারধর করেন।
এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম হয়।
জাহিদুরের দাবি, হামলায় প্রায় ২০ জন অংশ নেয়।
তার চিৎকার শুনে স্থানীয় পথচারীরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন।
পরে নিরাপত্তার শঙ্কায় তিনি দ্রুত এলাকা ছেড়ে চলে যান।
সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো—
এটি জাহিদুর রহমানের জীবনে প্রথম রাজনৈতিক হামলা নয়।
এর আগে ২০২২ সালেও আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে ছাত্রলীগের নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন তিনি।
সেসময় মারধরের পর তাকে পুলিশের কাছেও তুলে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
অর্থাৎ রাজনৈতিক পালাবদল হলেও, মত প্রকাশকে ঘিরে সহিংসতার অভিযোগ যেন একই রয়ে গেছে।
অভিযুক্ত যুবদল নেতা মাসুম খান অবশ্য হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
তিনি দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি সেখানে ছিলেন না।
তবে তিনি আরও বলেন, জাহিদুর একসময় তাদের সঙ্গে চলাফেরা করতেন এবং এখন তার শিবিরের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে বলে শুনেছেন।
এদিকে খানজাহান আলী থানার ওসি আবুল বাশার জানিয়েছেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে।
ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে—
বাংলাদেশে রাজনৈতিক মত প্রকাশ কি এখনো নিরাপদ?
সরকার পাল্টালেও কি ভিন্নমতের ওপর চাপ ও সহিংসতার সংস্কৃতি বদলাচ্ছে না?
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ওপর রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে হামলার ঘটনা দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক সংকেত।
একসময় ছাত্রলীগের হাতে নির্যাতনের শিকার হওয়া একজন শিক্ষার্থী,
আজ আবার অন্য রাজনৈতিক পরিচয়ের লোকজনের হাতে আক্রান্ত—
এই বাস্তবতা যেন দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির এক নির্মম প্রতিচ্ছবি।