৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৮শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি দুপুর ২:১২ শুক্রবার গ্রীষ্মকাল
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় লোকচক্ষুর অন্তরালে পরিত্যক্ত এক খামারে ঘোড়া জবাই করে মাংস বিক্রির প্রস্তুতিকালে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ভেস্তে গেল অসাধু চক্রের পরিকল্পনা। শুক্রবার (গতকাল) গভীর রাতে উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের মাশক গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ ঘোড়ার মাংস জব্দ করার পাশাপাশি জবাইয়ের জন্য অপেক্ষমাণ ১০টি জীবিত ঘোড়া উদ্ধার করেছে।

ঘটনাস্থল ও অভিযানের বিবরণ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক তিনটার দিকে মাশক গ্রামের একটি নির্জন স্থানে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখানে মো. জাহাঙ্গীর নামের এক স্থানীয় ব্যক্তির মালিকানাধীন একটি পরিত্যক্ত খামার ভাড়া নিয়ে এ অপকর্ম চালানো হচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ যখন সেখানে পৌঁছায়, তখন চক্রটি ঘোড়া জবাই ও মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজে ব্যস্ত ছিল। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়েই অভিযুক্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে অন্ধকারে পালিয়ে যায়। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
সন্দেহ ও এলাকাবাসীর ভূমিকা
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মাসখানেক আগে খুলনা থেকে আসা আনিসুর রহমান নামের এক ব্যক্তি মাসিক ২০ হাজার টাকা চুক্তিতে জাহাঙ্গীরের ওই পরিত্যক্ত খামারটি ভাড়া নেন। শুক্রবার রাতে একটি ট্রাকে করে বেশ কিছু ঘোড়া খামারে আনা হয়। গভীর রাতে খামারের ভেতর অস্বাভাবিক নড়াচড়া ও চার-পাঁচটি ঘোড়া জবাই করার দৃশ্য দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে তারা দ্রুত থানায় খবর দেন।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
কাপাসিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এ কে এম আতিকুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বাংলাদেশে ঘোড়া জবাই এবং এর মাংস ভক্ষণ বা বিক্রি প্রচলিত আইনে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং গুরুতর অপরাধ। তিনি বলেন, “প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, একটি সংঘবদ্ধ চক্র সাধারণ মানুষের কাছে অন্য পশুর মাংস বলে বা ভেজাল হিসেবে বিক্রির উদ্দেশ্যেই এই ঘোড়াগুলো জবাই করছিল।”
উদ্ধারকৃত ১০টি জীবিত ঘোড়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ভেটেরিনারি সার্জন কাজ করেছেন। বর্তমানে ঘোড়াগুলোকে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জিম্মায় রাখা হয়েছে।
পুলিশের পদক্ষেপ ও মাংস ধ্বংস
কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনুর আলম জানান, জবাই করা ঘোড়ার মাংস জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ এবং অবৈধ হওয়ায় সেগুলো তাৎক্ষণিকভাবে গর্ত করে মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।”
গভীর রাতে এমন ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে বন্য বা নিষিদ্ধ প্রাণীর মাংস বাজারে ছড়িয়ে দিতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
Analysis | Habibur Rahman