৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৮শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি দুপুর ১২:১৩ শুক্রবার গ্রীষ্মকাল
ইডেন গার্ডেনে তিন দিনের টেস্ট—আর সেই তিন দিনেই ভারতীয় ক্রিকেটে নেমে এলো এক অপ্রত্যাশিত ধস। মাত্র ১২৪ রানের লক্ষ্য সামনে রেখেও ৩০ রানে ম্যাচ হারল ভারত। দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ভারতের মাটিতে শেষ টেস্ট জয় ছিল ১৫ বছর আগে—এই ম্যাচে সেই শূন্যতা ভরাট হল নতুন ইতিহাস লিখে।
ম্যাচের শুরুতেই চাপ, কিন্তু নিয়ন্ত্রণ ছিল দুই দলের হাতেই
টেস্টের প্রথম দিন থেকেই দুই দলের ব্যাটারদের জন্য পিচ কোনোভাবেই বন্ধু ছিল না। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসে ১৫৯ রানই স্পষ্ট করে দেয়—এখানে ধৈর্য আর সঠিক শট সিলেকশন ছাড়া টিকে থাকা অসম্ভব। ভারতের হয়ে Jasprit Bumrah ছিলেন আগুনে মুডে—শুধু লাইনের উপর বোলিং নয়, নিখুঁত লেংথে ৫ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের টোন তিনি তৈরি করেছিলেন।
ভারতের ব্যাটিংয়ে ছোট ছোট ইনিংস, বড় ভিত্তি কেউ দিতে পারেনি
ভারতের প্রথম ইনিংসে রান উঠেছে স্রেফ ১৮৯। বল দখল করে খেলে যাওয়া KL Rahul-এর ৩৯ ছাড়া উল্লেখযোগ্য কোনো ইনিংস দাঁড়ায়নি। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে এই ইনিংসে Simon Harmer প্রথমবার নিজের প্রভাব দেখান—৪ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তিনি।
দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুটাই ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য দুঃস্বপ্ন। সস্তায় উইকেট পড়তে থাকলে ভারত ম্যাচ হাতে পেয়ে গেছে—এমনটা মনে হচ্ছিল। কিন্তু ক্রিজে টিকে থাকা একমাত্র ব্যাটার Temba Bavuma ভারতের সব হিসেব পাল্টে দেন। ১৩৬ বল মোকাবিলার ধৈর্য আর শট নির্বাচনে পরিপক্বতা মিলিয়ে তাঁর ৫৫ রানের অপরাজিত ইনিংসই পুরো ম্যাচের ‘মাস্টারস্ট্রোক’।
এ ইনিংসের পর দক্ষিণ আফ্রিকার রান দাঁড়ায় ১৫৩—ভারতের সামনে লক্ষ্য থাকে ১২৪।
ভারতের দ্বিতীয় ইনিংসের ধস—এক ইতিহাস তৈরির বিপরীতে এক ইতিহাস হারানোর গল্প
মাত্র ১২৪ রানের লক্ষ্য। ভারতীয় ব্যাটারদের সামনে সুযোগ ছিল স্বস্তির জয় তুলে নেওয়ার। কিন্তু দিনের শুরুতে ভারত যা দেখাল, তা সাম্প্রতিক স্মৃতিতে বিরল।
Simon Harmer আবারও বিধ্বংসী—আরও ৪ উইকেট ঝুলিতে। তাঁর বলের বাঁক, গতি পরিবর্তন আর ধারাবাহিক লাইন ভারতীয় ব্যাটারদের এক মুহূর্তও স্বস্তি দেয়নি। Washington Sundar-এর ৩১ রানের ছোট লড়াই ছাড়া কেউ উল্লেখযোগ্য প্রতিরোধ গড়তে পারেননি।
মাঝখানে আরও এক ধাক্কা—কাপ্তান Shubman Gill-এর ঘাড়ে গুরুতর চোট, দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি মাঠেই ফিরতে পারেননি। নেতৃত্ব নিতে হয় Rishabh Pant-কে, কিন্তু এক ব্যাটার কম নিয়ে ভারত কার্যত চাপের পাহাড়ে ডুবে যায়।
শেষ পর্যন্ত ভারত অল আউট—মাত্র ৯৩।
ম্যাচের নির্যাস
- মাত্র ১৫ বছরের অপেক্ষার অবসান—ভারতের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার জয়
- ম্যাচসেরা—সাইমন হার্মার: ৮ উইকেট
- বাভুমার ধৈর্যশীল ৫৫—টেস্টের একমাত্র ফিফটি
- ভারতকে ৩ দিনে হারানো – সিরিজে ১-০ লিড দক্ষিণ আফ্রিকার
আগামী লড়াই
২২ নভেম্বর শুরু হবে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট—গুয়াহাটিতে। সিরিজ বাঁচাতে মরিয়া ভারত, অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা চাইছে ২০০০ সালের পর প্রথমবার ভারতের মাটিতে টেস্ট সিরিজ জয়ের স্বাদ নিতে।
Analysis | Habibur Rahman


