
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা নিরসনের লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। তেহরানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরুর আগেই ইরানের জব্দ করে রাখা বিপুল পরিমাণ সম্পদের একটি অংশ ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াশিংটন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি ডলারের জব্দকৃত সম্পদ ফেরত দিতে সম্মত হয়েছে। এই পদক্ষেপকে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইসনা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি খসড়া চুক্তির আওতায় দীর্ঘদিন ধরে অবরুদ্ধ করে রাখা ইরানের প্রায় ২ হাজার ৮০০ কোটি ডলারের তহবিলের মধ্যে ১ হাজার কোটি থেকে ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলার ছাড় দেওয়া হতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, এটি দুই দেশের মধ্যে আস্থা পুনর্গঠনের একটি প্রচেষ্টা।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন যে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের যুদ্ধাবস্থা ও উত্তেজনার অবসান ঘটাতে একটি সমঝোতা চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। তাঁর এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
ইরানের কর্মকর্তারাও চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে দুই দেশের মধ্যে নতুন এক কূটনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা, রাজনৈতিক বিরোধ এবং আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক অত্যন্ত জটিল অবস্থায় ছিল। এমন প্রেক্ষাপটে জব্দকৃত সম্পদ ফেরত দেওয়া এবং সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির উদ্যোগ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এখন বিশ্ব সম্প্রদায়ের নজর সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য সম্ভাব্য চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের দিকে। চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও এর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা ও ইসনা।