
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফর উপলক্ষে একটি কাঁচা সড়কে রাতারাতি ইট বিছানো হয়েছিল। তবে সফর শেষ হওয়ার কিছুদিন পরই সেই ইট তুলে নেওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাবতলী উপজেলার নশিপুর ইউনিয়নের একটি প্রায় ৫০০ মিটার দীর্ঘ কাঁচা সড়ক প্রধানমন্ত্রীর সফরকে সামনে রেখে অস্থায়ীভাবে ইট-বালু দিয়ে চলাচল উপযোগী করা হয়। কিন্তু সফর শেষ হওয়ার সপ্তাহখানেকের মধ্যেই ঠিকাদার সেই ইটগুলো সরিয়ে নেয়।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি কাঁচা থাকায় জনগণ দুর্ভোগে ছিলেন। ইট বসানোর পর কিছুটা স্বস্তি পেলেও তা আবার তুলে নেওয়ায় আগের অবস্থায় ফিরে গেছে সড়কটি।
তবে এলজিইডি বলছে, বিষয়টি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, সড়কটি পাকাকরণের জন্য আগেই ৮৪ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। মূল কাজ শুরু করার আগে প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে অস্থায়ীভাবে ভাড়ায় আনা ইট দিয়ে সড়কটি প্রস্তুত করা হয়েছিল।
এলজিইডির কর্মকর্তারা জানান, ইটগুলো কেনা হয়নি, ভাটার কাছ থেকে ভাড়ায় আনা হয়েছিল। তাই সফর শেষ হওয়ার পর সেগুলো ফেরত দেওয়া হয়েছে। তাদের ভাষ্য, মূল প্রকল্পের আওতায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই স্থায়ীভাবে সড়ক নির্মাণ করা হবে।
অন্যদিকে স্থানীয়দের প্রশ্ন, যদি প্রকল্প অনুমোদিত হয়ে থাকে, তাহলে এখনো স্থায়ী কাজ শুরু হয়নি কেন? আর জনগণের ব্যবহারের জন্য তৈরি করা রাস্তার ইট আবার তুলে নেওয়ার প্রয়োজনই বা কেন হলো?
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেকেই এটিকে ‘দেখানোর উন্নয়ন’ বলে মন্তব্য করছেন, আবার কেউ কেউ বলছেন এটি ছিল সাময়িক ব্যবস্থা মাত্র।
এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু হবে এবং সড়কটি স্থায়ীভাবে নির্মাণ করা হবে।