দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে চালু করা হয়েছিল স্কুল ফিডিং প্রকল্প। প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পে শিশুদের জন্য ডিম বানরুটি দুধ কলা ও বিস্কুট দেওয়ার কথা থাকলেও এখন সেই প্রকল্প ঘিরেই উঠেছে ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ। দেশের বিভিন্ন উপজেলায় অনুসন্ধানে দেখা গেছে নিম্নমানের খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে আর সেই খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছে শিশুরা
২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই প্রকল্প বর্তমানে দেশের প্রায় ১৫০ উপজেলায় চালু রয়েছে। প্রতিদিন লাখ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য বরাদ্দ দেওয়া হলেও বাস্তবে তাদের হাতে পৌঁছাচ্ছে নিম্নমানের খাবার। কোথাও ফাঙ্গাস ধরা বানরুটি আবার কোথাও কম ওজনের ডিম কিংবা কাঁচা কলা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে
জয়পুরহাটের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেখা গেছে শিশুদের দেওয়া বানরুটিতে ফাঙ্গাস জমে গেছে এবং সেখান থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী সেই রুটি খেতে না পেরে ফেলে দিচ্ছে। শিক্ষকরা বলছেন এমন ঘটনা নিয়মিত হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি
ডিম নিয়েও রয়েছে বড় ধরনের অভিযোগ। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি ডিমের ওজন হওয়ার কথা অন্তত ৬০ গ্রাম। কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা গেছে অনেক জায়গায় ৩৫ থেকে ৪০ গ্রামের ছোট ডিম সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা বাঁচিয়ে অসাধু চক্র বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে
একইভাবে কলার ক্ষেত্রেও দেখা গেছে বড় ধরনের অনিয়ম। চুক্তি অনুযায়ী ১০০ গ্রাম ওজনের কলা দেওয়ার কথা থাকলেও অনেক জায়গায় কম ওজনের এবং অপরিপক্ব কলা সরবরাহ করা হচ্ছে। শিশুরা বলছে এসব কলা খেতে কষ লাগে এবং অনেক সময় ভেতরে পচাও থাকে
এসব খাবার খেয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে তিন শতাধিক শিশু অসুস্থ হয়েছে বলে জানা গেছে। সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে যেখানে একসঙ্গে ২০ জন শিক্ষার্থী পেট ব্যথা ও বমির কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ে
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন নিম্নমানের বা পচা খাবার শিশুদের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এতে ডায়রিয়া জন্ডিস হেপাটাইটিসসহ নানা রোগ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে
এদিকে প্রকল্প পরিচালকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং শিশুদের খাবারের মান নিয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। শিক্ষামন্ত্রীও জানিয়েছেন এখন থেকে প্রধান শিক্ষক ও স্কুল ম্যানেজমেন্ট কমিটিকে খাবার তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে
সব মিলিয়ে শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করার এই প্রকল্প এখন প্রশ্নের মুখে। হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে যদি শিশুদের নিরাপদ খাবারই নিশ্চিত না হয় তাহলে তা শুধু অর্থের অপচয় নয় বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বাস্থ্যের জন্যও বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে