
নোয়াখালীর সদর উপজেলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ঝটিকা মিছিলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, ভাঙচুর এবং উত্তেজনার ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে পরিস্থিতি। এ ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়েরের পাশাপাশি গত দুই দিনে অভিযান চালিয়ে ৪৭ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে সুধারাম মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলামকে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত বা ক্লোজড করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার বিকেলে সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধেরহাট বাজার এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা আকস্মিক একটি মিছিল বের করেন। মিছিল চলাকালে পুলিশ বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও সেটি ছত্রভঙ্গ করতে ব্যর্থ হয় বলে স্থানীয়দের দাবি।
এ ঘটনার পর ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির পৃথক বিক্ষোভ সমাবেশ করে। বিক্ষোভ শেষে ফেরার পথে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ ওঠে। এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করা হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ অভিযান শুরু করে। শনিবার রাত থেকে রোববার ভোর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ৪৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।
এদিকে ঘটনাকে ঘিরে প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে সুধারাম মডেল থানার ওসিকে ক্লোজড করা হয়েছে। যদিও পুলিশ প্রশাসনের দাবি, এটি নিয়মিত প্রশাসনিক বদলির অংশ। একই সঙ্গে থানার কয়েকজন কর্মকর্তাকেও নতুন দায়িত্বে বদলি করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার টি এম মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রকাশ্য কর্মকাণ্ড এবং পরবর্তী সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ দেখা দিলেও পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি প্রশাসনের।
নোয়াখালীর এই ঘটনা রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের আশা, দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।