
পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান হঠাৎ পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। সোমবার (১ জুন) তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে নিজের স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্র জমা দেন।
পদত্যাগপত্রে দীপেন দেওয়ান জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতার কারণে মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ও নিয়মিত কার্যক্রম যথাযথভাবে পরিচালনা করতে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছিলেন। তিনি মনে করেন, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমের গতি বজায় রাখতে তার বর্তমান দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোই সবচেয়ে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত।
দীপেন দেওয়ানের এই পদত্যাগকে অনেকেই ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যগত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন। তবে একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রী হিসেবে নিজের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেওয়াকে রাজনৈতিক মহলে ইতিবাচকভাবেও দেখা হচ্ছে।
দীর্ঘ ১৯ বছর সরকারি চাকরিতে কর্মরত থাকার পর ২০০৫ সালে তিনি সক্রিয়ভাবে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন। ধীরে ধীরে দলীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পার্বত্য রাঙ্গামাটি-২৯৯ আসন থেকে বিজয়ী হন। এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমে তার ভূমিকা নিয়ে আলোচনা থাকলেও হঠাৎ পদত্যাগের ঘটনায় এখন রাজনৈতিক মহলে নতুন প্রশ্ন উঠেছে— তার স্থলাভিষিক্ত কে হবেন এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কাকে দেওয়া হবে?
যদিও পদত্যাগের কারণ হিসেবে তিনি শুধুমাত্র শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করেছেন, তবুও বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন সবার নজর সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নতুন নেতৃত্বের দিকে।