.
জাতীয়

টাকা নিয়া আসলে আসেন, না আসলে নিয়া গেলাম’— ডিবি পরিচয়ে অভিযানের ভয়ংকর অভিযোগ

Email :1

ঢাকার সাভারে এক খ্রিষ্টান পরিবারের বাড়িতে ডিবি পরিচয়ে অভিযান।
অভিযানের পর টাকা নেওয়া, ভয়ভীতি দেখানো, একজনকে আটক এবং পরে টাকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ।
আর পুরো ঘটনাকে আরও আলোচিত করে তুলেছে ফাঁস হওয়া কয়েকটি অডিও রেকর্ড।
কালবেলায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ভয়ংকর সব অভিযোগ।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, গত শনিবার সন্ধ্যায় কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের ডিবির সদস্য পরিচয় দিয়ে তাদের বাসায় প্রবেশ করেন।
সেই সময় খ্রিষ্টান ধর্মীয় উৎসব “সাধু আন্তনীর পর্ব” উপলক্ষে বাসায় রাখা ছিল কিছু “বাংলা মদ”।
অভিযানে আসা ব্যক্তিরা সেই মদ উদ্ধার করে পুরো ঘর তল্লাশি চালান।
পরে ঘরে থাকা টাকা-পয়সা নেওয়ার অভিযোগও ওঠে তাদের বিরুদ্ধে।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অংশ আসে অডিও রেকর্ডে।
একটি অডিওতে শোনা যায়, ডিবি পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি বলছেন—
“আমরা অফিসে চইলা যাইতাছি, মামলা হবে তাইলে।”
ওপাশে আটক ব্যক্তির স্ত্রী অনুরোধ করছেন—
“আপনারা একটু কমাই টমাই করেন…”
আরেক পর্যায়ে ওই ব্যক্তি বলেন—
“টাকা নিয়া আসলে আসেন, না আসলে নিয়া গেলাম।”
এই কথোপকথন এখন সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ,
প্রথমে তাদের কাছ থেকে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়।
পরে ধারদেনা করে প্রায় ৪১ হাজার টাকা জোগাড় করার পর ধরেন্ডা এলাকায় নিয়ে আটক ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এছাড়া অভিযানের সময় পরিবারের ১৩ বছরের শিশুকেও ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরিবারটির দাবি, তাদের কাছ থেকে মোট প্রায় ৯ হাজার টাকার বেশি নগদ অর্থও নিয়ে যাওয়া হয়।
ঘটনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—
এই অভিযানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা নিজেদের পরিচয় গোপন রাখার চেষ্টা করেন।
প্রথমে এক কর্মকর্তা নিজেকে “এসআই আরিফ” পরিচয় দিলেও পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্তে উঠে আসে ভিন্ন তথ্য।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার অবস্থান ট্র্যাক করে দেখা গেছে তিনি ঘটনাস্থলের কাছেই ছিলেন।
যদিও শুরুতে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।
পরে ঢাকা জেলা উত্তর ডিবির ওসি জানান,
তাদের তদন্তে “এএসআই আরিফ”-এর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে এবং তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তবে পুরো অভিযানে আরও কারা জড়িত ছিলেন, সেই প্রশ্ন এখনো রয়ে গেছে।
ঘটনাটি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ কতটা ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে?
আরও বড় প্রশ্ন হলো—
যদি সত্যিই ধর্মীয় অনুষ্ঠানের জন্য রাখা জিনিসকে কেন্দ্র করে এমন অভিযান হয়ে থাকে, তাহলে সেখানে আইন প্রয়োগের সীমা কোথায় শেষ হয় আর ভয়ভীতি কোথা থেকে শুরু হয়?
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের অভিযোগ শুধু একটি পরিবারের নিরাপত্তা নয়, বরং পুরো আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলে।
আপনার মতামত কী?
এ ধরনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত বলে মনে করেন কি?

Related Tag:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts