বাংলাদেশে চলমান জ্বালানি সংকট নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী দাবি করেছেন, এই সংকট মূলত আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির ফল—সরকারের ব্যর্থতা নয়।
রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি-তে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বিশ্বরাজনীতির অস্থিরতা, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি, সরাসরি প্রভাব ফেলছে বাংলাদেশের জ্বালানি বাজারে। তার মতে, যদি সংকটটি সরকারের ভুল সিদ্ধান্ত বা অব্যবস্থাপনার কারণে হতো, তাহলে তা ভিন্নভাবে মূল্যায়ন করা যেত।
রিজভী ইঙ্গিত দেন, হরমুজ প্রণালি-কে কেন্দ্র করে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-এর মধ্যকার উত্তেজনা বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে। এর ফলে তেলের দাম বেড়েছে এবং সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে—যা তিনি “কৃত্রিম সংকট” হিসেবে উল্লেখ করেন।
তবে তিনি এটাও বলেন, এই সংকট স্থায়ী নয়। সঠিক পদক্ষেপ নিলে দ্রুতই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। তার ভাষায়, সরকার যদি আন্তরিকভাবে কাজ করে এবং জনগণের কাছে তাদের কার্যক্রম দৃশ্যমান করে, তাহলে মানুষের আস্থা ফিরে আসবে।
একইসঙ্গে তিনি বিদ্যমান লোডশেডিং পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ ঘাটতি বেশি হওয়ায় জনগণের ভোগান্তি বাড়ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও দায়িত্বশীলদের আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান।
রিজভীর বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট—তিনি সংকটকে অস্বীকার করছেন না, তবে এর দায় পুরোপুরি সরকারের ওপর চাপাতে রাজি নন। বরং তিনি এটিকে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটের অংশ হিসেবে দেখছেন, যেখানে যুদ্ধ, ভূরাজনীতি এবং জ্বালানি সরবরাহের চেইন—সবকিছুই একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।
তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—এই ব্যাখ্যা কি সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে পারবে? নাকি বাস্তব সমাধানের জন্য আরও কার্যকর এবং দৃশ্যমান পদক্ষেপ প্রয়োজন?
বর্তমান পরিস্থিতি শুধু অর্থনৈতিক নয়, এটি আস্থারও একটি পরীক্ষা—যেখানে সরকারকে শুধু সংকট মোকাবিলা করাই নয়, বরং জনগণকে আশ্বস্ত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।