
বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. এহছানুল হক মিলন। সেশনজট কমিয়ে আনার লক্ষ্যে ২০২৭ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ের আগেই—চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
রাজধানীর বাংলাদেশ সচিবালয়-এ এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, করোনা মহামারি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে দেশের শিক্ষা ক্যালেন্ডার দীর্ঘদিন ধরে এলোমেলো হয়ে আছে। সেই অচলাবস্থা কাটিয়ে স্বাভাবিক ধারায় ফিরতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষামন্ত্রীর ভাষায়, শুধু এসএসসি নয়—২০২৭ সালের উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষাও একইভাবে এগিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ, পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাকে দ্রুত একটি নির্দিষ্ট সময়সূচির মধ্যে ফিরিয়ে আনতে চায় সরকার।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল যুক্তি হলো সেশনজট কমানো। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অনেক দেরিতে পরীক্ষা দিতে বাধ্য হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনের ওপর। আগাম পরীক্ষা আয়োজনের মাধ্যমে এই বিলম্ব কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
তবে এই সিদ্ধান্ত নতুন কিছু প্রশ্নও তুলে দিচ্ছে। শিক্ষার্থীরা কি এত কম সময়ে প্রস্তুতি নিতে পারবে? শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো কি নতুন সময়সূচির সঙ্গে তাল মেলাতে প্রস্তুত? শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যেও এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে।
একদিকে, দ্রুত সেশনজট কাটানোর এই উদ্যোগ অনেকের কাছে ইতিবাচক। অন্যদিকে, হঠাৎ সময় এগিয়ে আসায় শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সব মিলিয়ে, এটি শুধু একটি সময়সূচি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নয়—বরং পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাকে পুনর্গঠনের একটি বড় পদক্ষেপ। এখন দেখার বিষয়, এই পরিকল্পনা বাস্তবে কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা যায় এবং শিক্ষার্থীরা এর সঙ্গে কত দ্রুত মানিয়ে নিতে পারে।