১০ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২৪শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৪ঠা শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি রাত ২:০৮ মঙ্গলবার বসন্তকাল
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মহারণ শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে কলম্বোর সংবাদ সম্মেলনে উত্তাপ ছড়ালেন পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আগা। আসন্ন বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ভারতের বিপক্ষে হাই-ভোল্টেজ ম্যাচটি পাকিস্তান বয়কট করছে—এমন স্পর্শকাতর ইস্যুতে কথা বলার পাশাপাশি, টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের না থাকা নিয়ে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন তিনি।

বাংলাদেশের অনুপস্থিতি ও ‘ভ্রাতৃত্বের’ বার্তা
এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি ক্রিকেট বিশ্বে বড় এক শূন্যতা তৈরি করেছে। মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট জটিলতায় নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতে দল পাঠাতে রাজি হয়নি বাংলাদেশ সরকার। পরবর্তীতে আইসিসি বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
কলম্বোয় অধিনায়কদের সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে আবেগী হয়ে পড়েন পাকিস্তান অধিনায়ক। বাংলাদেশের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে সালমান আগা বলেন, ‘‘বাংলাদেশিরা আমাদের ভাই। পাকিস্তানের প্রতি তাদের যে সমর্থন, তার জন্য আমরা সর্বদা কৃতজ্ঞ। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক যে, তারা এবারের বিশ্বকাপে আমাদের সঙ্গে নেই।’’
বাংলাদেশের এই অনুপস্থিতি যে টুর্নামেন্টের জৌলুস কিছুটা হলেও ম্লান করেছে, সালমান আগার কথায় সেটাই ফুটে উঠেছে।
ভারত ম্যাচ বয়কট: সরকারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত
বাংলাদেশের প্রতি সংহতি এবং উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পাকিস্তান সরকার গ্রুপ পর্বে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি বয়কটের নির্দেশ দিয়েছে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশের লড়াই না হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই হতাশ ক্রিকেট বিশ্ব। বিষয়টি নিয়ে সালমান আগা নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন।
তিনি বলেন, ‘‘ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। এটি সম্পূর্ণ সরকারের সিদ্ধান্ত এবং আমরা সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাই। সরকার যা বলবে, আমরা ঠিক সেটাই করব।’’
ভক্ত-সমর্থকদের হতাশার কথা স্বীকার করে তিনি আরও যোগ করেন, ‘‘ম্যাচটি না হওয়ায় সমর্থকেরা হতাশ হবেন, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমাদের মনোযোগ এখন গ্রুপের বাকি তিনটি ম্যাচের দিকে। আমরা সেই ম্যাচগুলো খেলতে রোমাঞ্চিত।’’
নকআউট পর্বে ভারতের মুখোমুখি হলে কী হবে?
গ্রুপ পর্বে বয়কট করলেও, সমীকরণের মারপ্যাঁচে সেমিফাইনাল বা ফাইনালে যদি ভারত ও পাকিস্তান মুখোমুখি হয়, তখন কী ঘটবে? এমন প্রশ্নের জবাবে ধোঁয়াশা রেখে দিয়েছেন পাকিস্তান দলপতি। তিনি বলেন, ‘‘যদি সেমিফাইনাল বা ফাইনালে তাদের বিপক্ষে খেলার পরিস্থিতি তৈরি হয়, তবে আমাদের পুনরায় সরকারের দ্বারস্থ হতে হবে। তারা তখন যে পরামর্শ দেবে, আমরা সে অনুযায়ীই কাজ করব।’’
যুক্তরাষ্ট্র স্মৃতি ও নতুন প্রত্যয়
‘এ’ গ্রুপে পাকিস্তান ছাড়াও রয়েছে নেদারল্যান্ডস, নামিবিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র। গত বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হেরে অঘটনের শিকার হয়েছিল পাকিস্তান। তবে সেই তিক্ত স্মৃতি ভুলে সামনে তাকাতে চান সালমান।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘‘হ্যাঁ, গত বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হারের বিষয়টি এখন অতীত ইতিহাস। এটা নতুন বিশ্বকাপ, আমাদের দল এবং কম্বিনেশনও নতুন। অধিনায়ক হিসেবে এটি আমার প্রথম বিশ্বকাপ, তাই আমি দারুণ রোমাঞ্চিত। আমি সামনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দিতে চাই এবং সতীর্থদের কাছ থেকে সেরাটা বের করে আনতে চাই।’’
আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে পাকিস্তান। মাঠের বাইরের নানা নাটকীয়তা একপাশে রেখে সালমান আগার দল ২২ গজে কতটা জ্বলে উঠতে পারে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
Analysis | Habibur Rahman