.
রাজনীতি

 স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতি: নতুন এমপিদের শপথ পড়াতে পারেন প্রধান বিচারপতি বা সিইসি

Email :23

১০ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২৪শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৪ঠা শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি রাত ২:১০ মঙ্গলবার বসন্তকাল

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ কে পড়াবেন, তা নিয়ে সৃষ্ট আইনি ও সাংবিধানিক ধোঁয়াশা দূর করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। তিনি জানিয়েছেন, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী বিশেষ পরিস্থিতিতে স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে শপথ পড়ানোর জন্য সরকারের হাতে দুটি বিকল্প রয়েছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তি হিসেবে প্রধান বিচারপতি অথবা নির্দিষ্ট সময়ের পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এই দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে আইন উপদেষ্টা এসব কথা জানান।

আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল
প্রথম আলো ফাইল ছবি

কেন এই সাংবিধানিক প্রশ্ন?
সাধারণত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান বিদায়ী সংসদের স্পিকার। স্পিকারের অনুপস্থিতিতে ডেপুটি স্পিকার এই দায়িত্ব পালন করে থাকেন। তবে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে চিত্রটি ভিন্ন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী গত ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে পদত্যাগ করেছেন এবং তার আগেই আগস্ট মাসে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন তৎকালীন ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু।

সাংবিধানিক প্রথা অনুযায়ী স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার না থাকায় আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান কে পরিচালনা করবেন, তা নিয়ে আইনি ব্যাখ্যার প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল।

সরকারের হাতে যে দুটি বিকল্প
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ড. আসিফ নজরুল সংবিধান ও আইনি কাঠামোর ব্যাখ্যা তুলে ধরে বলেন, ‘প্রচলিত নিয়মে স্পিকার শপথ পড়ান। স্পিকার না থাকলে ডেপুটি স্পিকার। কিন্তু বর্তমানে একজনের পদত্যাগ এবং অন্যজনের কারাবাস ও তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর মামলার কারণে তাদেরকে দিয়ে শপথ পড়ানোর কোনো নৈতিক বা বাস্তবিক সুযোগ নেই।’

এমতাবস্থায় শপথ গ্রহণের জন্য দুটি আইনি পথের কথা উল্লেখ করেন আইন উপদেষ্টা:

১. রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধি: সংবিধান ও আইন অনুযায়ী, স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে, সরকার প্রধানের (প্রধান উপদেষ্টা) পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত কোনো ব্যক্তি শপথ পড়াতে পারেন। এক্ষেত্রে আইন উপদেষ্টা উদাহরণ হিসেবে প্রধান বিচারপতির কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, রাষ্ট্রপতি চাইলে প্রধান বিচারপতিকে এই দায়িত্ব দিতে পারেন।

২. প্রধান নির্বাচন কমিশনার: দ্বিতীয় বিকল্প হিসেবে তিনি জানান, নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে যদি শপথ আয়োজন সম্ভব না হয়, তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) নিজেই শপথ বাক্য পাঠ করাতে পারবেন।

দ্রুত শপথ চায় সরকার
সরকার নির্বাচনের পর কালক্ষেপণ না করে দ্রুততম সময়ে শপথ সম্পন্ন করতে চায় বলে জানান ড. আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, ‘সিইসি কর্তৃক শপথ পড়ানোর ক্ষেত্রে তিন দিন অপেক্ষা করার একটি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু আমরা নির্বাচনের পর অতটা সময় অপেক্ষা করতে চাই না। যত দ্রুত সম্ভব শপথ প্রক্রিয়া শেষ করার পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে।’

আইন উপদেষ্টার বক্তব্য থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, সরকার সম্ভবত ‘রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তি’ বা প্রধান বিচারপতির মাধ্যমে শপথ পড়ানোর বিকল্পটিকেই প্রাধান্য দিচ্ছে।

পরবর্তী পদক্ষেপ
বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে আরও কিছু দাপ্তরিক প্রক্রিয়া বাকি রয়েছে। আইন উপদেষ্টা জানান, এ বিষয়ে সংসদ সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিবের সঙ্গে আলোচনা করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট আইনগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হবে। এরপর চূড়ান্ত মতামত প্রধান উপদেষ্টার কাছে পেশ করা হবে। এটি বর্তমানে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের পর্যায়ে রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গণভোট আয়োজনেরও কথা রয়েছে। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরপরই নতুন সংসদ ও সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে, যার প্রথম ধাপই হলো এমপিদের শপথ গ্রহণ।

Analysis | Habibur Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts