৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৮শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি দুপুর ২:১১ শুক্রবার গ্রীষ্মকাল
রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে সুসংহত করতে দলীয় বা ব্যক্তিগত সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে ওঠার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেছেন, দেশের স্বার্থেই গণভোটে জনগণকে ‘হ্যাঁ’ বলতে হবে। এমন এক রাজনৈতিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে কাউকে দেশ ছেড়ে পালাতে না হয় এবং জবাবদিহির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হয়।

আজ মঙ্গলবার (তারিখ) সকাল ১০টার দিকে ঢাকার সাভারের রেডিও কলোনি এলাকায় ‘ভোটের রিকশা’ নামক একটি জনসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এই কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
রাজনৈতিক বন্দোবস্ত ও জবাবদিহিতা
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘আমরা এমন একটি রাজনৈতিক বন্দোবস্ত চাই, যেখানে কাউকে দেশ ত্যাগ করতে হবে না। আমরা চাই শাসকরা জনগণের মুখোমুখি হওয়ার সাহস রাখবেন এবং তাদের প্রশ্নের সদুত্তর দেওয়ার ক্ষমতা রাখবেন। তাই ব্যক্তি বা দলের বিবেচনার চেয়ে দেশের স্বার্থকে বড় করে দেখতে হবে এবং গণভোটে ইতিবাচক রায় দিতে হবে।’
গণভোট ও জুলাই সনদের বাস্তবায়ন
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও সনদের প্রসঙ্গ টেনে উপদেষ্টা বলেন, ‘স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ থেকে আমরা রাষ্ট্র সংস্কারের মূল বিষয়গুলো চিহ্নিত করেছি। এর মধ্যে রয়েছে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা, জনগণের ক্ষমতায়ন, সুশাসন নিশ্চিতকরণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি। এই বিষয়গুলোর ওপর ভিত্তি করেই গণভোটের প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘গণভোট হলো জাতীয় স্বার্থের বিষয়। এখানে যদি জনগণ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে সংস্কারের পক্ষে রায় দেয়, তবে তা হবে দেশের বিজয়। দেশ জিতলে আমরা সবাই জিতে যাব। এই সংস্কারগুলো বাস্তবায়িত হলে জাতি প্রকৃত গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করতে পারবে।’
ভোটের পদ্ধতি প্রসঙ্গে ব্যাখ্যা
গণভোটে প্রতিটি বিষয়ে আলাদা প্রশ্নের পরিবর্তে সামগ্রিকভাবে উত্তর দেওয়ার সুযোগ রাখা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, ‘দেশের অনেক সাধারণ মানুষের পক্ষে প্রতিটি প্রশ্ন আলাদাভাবে পড়ে উত্তর দেওয়া জটিল হতে পারে। তাই পুরো সংস্কার প্রস্তাবকে একটি কাঠামোর মধ্যে এনে সহজ করা হয়েছে। জনগণকে সব প্রস্তাবকে ইতিবাচক ও সামগ্রিক পরিবর্তন হিসেবে বিবেচনা করে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলতে হবে।’
‘ভোটের রিকশা’ কর্মসূচি
নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে নেওয়া ‘ভোটের রিকশা’ কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি জানান, দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে সুসজ্জিত রিকশা নামানো হয়েছে। এসব রিকশায় মাইকিংয়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে ভোটের বার্তা পৌঁছে দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ‘এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো মানুষকে ভোটদানে উৎসাহিত করা। জনগণ যাতে সাধারণ নির্বাচন ও গণভোটে নির্ভয়ে এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিতে পারে, সেই আহ্বানই এই প্রচারণার মাধ্যমে জানানো হবে।’
উদ্বোধন শেষে উপদেষ্টা স্থানীয় জনগণের সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রচারণামূলক রিকশাগুলো পরিদর্শন করেন।
Analysis | Habibur Rahman