.
জাতীয়

ফটিকছড়ির চা-বাগানের গহীনে পরিত্যক্ত দুই বস্তা, মিলল ৯টি আগ্নেয়াস্ত্র: বড় নাশকতার ছক?

Email :39

৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৮শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি দুপুর ২:০৮ শুক্রবার গ্রীষ্মকাল

 চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ভুজপুর থানা এলাকার নির্জন চা-বাগান। দিনের আলোতেও যেখানে মানুষের আনাগোনা কম, রাতের আঁধারে সেই বারোমাসিয়া চা-বাগানের দুর্গম জঙ্গলকেই অস্ত্র মজুদের নিরাপদ আস্তানা হিসেবে বেছে নিয়েছিল দুর্বৃত্তরা। তবে শেষরক্ষা হয়নি। পুলিশের ঝটিকা অভিযানে পণ্ড হয়েছে সেই পরিকল্পনা। চা-বাগানের ভেতর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় দুটি বস্তাভর্তি বিপুল পরিমাণ দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির চা বাগানে পাওয়া গেল দুই বস্তায় রাখা ৯টি একনলা বন্দুকছবি: পুলিশের সৌজন্য

মঙ্গলবার (আজ) ভোরে ভুজপুর থানার সুয়াবিল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ওই চা-বাগানে অভিযান চালিয়ে এই অস্ত্রগুলো জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে দেশে তৈরি ৯টি একনলা বন্দুক।

অভিযানের বিবরণ
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে যে, টি কে গ্রুপের মালিকানাধীন বারোমাসিয়া চা-বাগানের পেছনের জঙ্গল এলাকায় একদল সন্ত্রাসী জড়ো হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছিল, তারা বড় কোনো অপরাধ সংঘটনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজিজ এবং ভুজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে-এর নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ দল ওই এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তল্লাশি চালিয়ে জঙ্গলের ভেতর লুকিয়ে রাখা দুটি সন্দেহজনক বস্তা খুঁজে পায় পুলিশ। বস্তাগুলো খোলার পর সেখান থেকে ৯টি একনলা বন্দুক বেরিয়ে আসে। তবে এই অভিযানে কাউকে হাতেনাতে আটক করা সম্ভব হয়নি।

পুলিশের বক্তব্য ও শঙ্কা
উদ্ধারকৃত অস্ত্রের ধরন ও পরিমাণ দেখে পুলিশ ধারণা করছে, বড় ধরনের কোনো নাশকতা বা এলাকায় নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যেই এই অস্ত্রগুলো মজুদ করা হয়েছিল।

ভুজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে এ বিষয়ে বলেন, “আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য ছিল যে ওই এলাকায় দুষ্কৃতকারীরা অবস্থান করছে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল নাশকতা সৃষ্টি এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এলাকায় ভীতি প্রদর্শন করা। অভিযানের সময় তারা পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও তাদের ফেলে যাওয়া ৯টি আগ্নেয়াস্ত্র আমরা জব্দ করেছি। কারা এবং কেন এই বিপুল পরিমাণ অস্ত্র সেখানে এনেছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় জড়িত অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

অতীতের চিত্র ও জনমনে স্বস্তি
ফটিকছড়ি ও ভুজপুর এলাকাটি ভৌগোলিক কারণে এবং পাহাড়-জঙ্গল ঘেরা হওয়ায় মাঝেমধ্যেই দুষ্কৃতকারীরা একে অপরাধের স্বর্গরাজ্য হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করে। উল্লেখ্য, এর আগেও ফটিকছড়ির বিভিন্ন দুর্গম স্থান থেকে পুলিশের অভিযানে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এক সাথে ৯টি বন্দুক উদ্ধারের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে বেশ বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে স্থানীয়রা। চা-বাগান এলাকা থেকে এই বিপুল পরিমাণ মারণাস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় জনমনে আতঙ্কের পাশাপাশি পুলিশের তৎপরতায় স্বস্তিও ফিরে এসেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং চা-বাগান এলাকাসহ দুর্গম জনপদগুলোতে সন্ত্রাসবিরোধী এমন অভিযান ভবিষ্যতে আরও জোরদার করা হবে।

Analysis | Habibur Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts