১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি সকাল ১০:৩০ সোমবার বসন্তকাল
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড়সড় ধাক্কার মুখে পড়তে যাচ্ছে ভারত। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন ঘোষণায় দিল্লির নীতিনির্ধারকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও গভীর হয়েছে। ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখে এমন দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প, যা কার্যকর হচ্ছে সোমবার রাত থেকেই। এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারতীয় পণ্যের ওপর মোট মার্কিন শুল্কের পরিমাণ বেড়ে ৭৫ শতাংশে পৌঁছানোর প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

শুল্কের ত্রিফলা আক্রমণ
ভারতের জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল। ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতকে আগেই ‘ট্যারিফ কিং’ বা শুল্কের রাজা আখ্যা দিয়ে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন। এরপর রাশিয়ার কাছ থেকে তুলনামূলক কম দামে জ্বালানি তেল কেনার ‘শাস্তি’ হিসেবে আরও ২৫ শতাংশ জরিমানা শুল্ক যোগ করা হয়। এখন ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যের কারণে নতুন করে আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক যোগ হলে, ভারতীয় পণ্যকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য মোট ৭৫ শতাংশ শুল্ক গুনতে হতে পারে। সোমবার রাতে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ স্যোশাল’-এ ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক লেনদেন রাখা দেশগুলোর জন্য এই অতিরিক্ত শুল্ক অনিবার্য এবং এ নিয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
রপ্তানি বাণিজ্যে বড় ধস নামার আশঙ্কা
ইরান ভারতের অন্যতম বিশ্বস্ত বাণিজ্যিক মিত্র। বিশেষ করে ভারতের বাসমতী চাল রপ্তানির সবচেয়ে বড় বাজার ইরান। বর্তমানে বিশ্ববাজারে চাল রপ্তানিতে ভারতের যে ১৯.৪ শতাংশ অবদান রয়েছে, তার পেছনে ইরানের ভূমিকা অনস্বীকার্য। চাল ছাড়াও ভারত থেকে চা, জীবনরক্ষাকারী ওষুধ, তৈরি গয়না, চিনি, ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি এবং টাটকা ফল ইরানে রপ্তানি হয়। ট্রাম্পের এই নিষেধাজ্ঞার ফলে এই বিশাল রপ্তানি বাজার হুমকির মুখে পড়ল।
পরিসংখ্যান বলছে, ভারত ও ইরানের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের আকার প্রায় ১৭০ কোটি ডলার। এর মধ্যে ভারত রপ্তানি করে ১২৪ কোটি ডলারের পণ্য এবং আমদানি করে ৪৪ কোটি ডলারের পণ্য। অর্থাৎ, বাণিজ্যের পাল্লা ভারতের দিকেই ভারী। দুই বছর আগেও এই বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ২৩৩ কোটি ডলার। নতুন শুল্কনীতির ফলে এই সংখ্যা তলানিতে ঠেকতে পারে।
ইরান সংকট ও ভারতের অবস্থান
গত দুই সপ্তাহ ধরে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছে, যেখানে প্রায় ৬০০ বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ট্রাম্প প্রশাসন সরাসরি এই বিক্ষোভকে সমর্থন দিচ্ছে এবং তেহরানকে অর্থনৈতিকভাবে একঘরে করতে চাইছে। ভারত ইরান থেকে আপেল, খেজুর, পেস্তা, কিউই এবং বিভিন্ন রাসায়নিক আমদানি করে। যদিও গত এক দশকে জ্বালানি তেল আমদানি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে এনেছে ভারত, তবুও বিদ্যমান বাণিজ্যিক সম্পর্কই এখন ট্রাম্পের চক্ষুশূল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
Analysis | Habibur Rahman