১৬ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ৩১শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৭ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি সন্ধ্যা ৭:২৯ সোমবার শরৎকাল
ইরানের রাজপথে গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা সরকারবিরোধী আন্দোলন এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। অর্থনৈতিক সংকট থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা নিয়ে এতদিন ধোঁয়াশা থাকলেও, এবার খোদ ইরান সরকারের পক্ষ থেকেই বড় ধরণের স্বীকারোক্তি এল। মঙ্গলবার ইরানের এক উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, চলমান অস্থিরতায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও সাধারণ মানুষ মিলিয়ে প্রায় ২ হাজার জন প্রাণ হারিয়েছেন।

দেশটির কর্তৃপক্ষ এতদিন কঠোর হাতে বিক্ষোভ দমনের নীতি অবলম্বন করে আসছিল। তবে এই প্রথম তারা এত বিপুল সংখ্যক প্রাণহানির কথা স্বীকার করল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা দাবি করেছেন, এই মৃত্যুর মিছিলের জন্য মূলত ‘সন্ত্রাসীরা’ দায়ী। তাঁর মতে, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো নিরাপত্তা কর্মী ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালাচ্ছে। তবে মোট নিহতের মধ্যে কতজন বিক্ষোভকারী আর কতজন পুলিশ বা আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য, সে বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট পরিসংখ্যান দেননি।
বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৭9 সালের ইসলামি বিপ্লবের পর বর্তমান সময়টি ইরান সরকারের জন্য অন্যতম কঠিন সময়। গত তিন বছরের মধ্যে এটিই দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। একদিকে ভয়াবহ অর্থনৈতিক ধস, অন্যদিকে গত বছর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক চাপ—সব মিলিয়ে তেহরান এক গভীর সংকটের মুখে।
ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্ব এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কৌশলী অবস্থান নিয়েছে। তারা জনগণের অর্থনৈতিক দাবিদাওয়াকে ‘বৈধ’ বললেও, রাজপথের আন্দোলন দমনে বলপ্রয়োগ অব্যাহত রেখেছে। সরকারের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইন্ধনে ‘সন্ত্রাসীরা’ এই অরাজকতা সৃষ্টি করছে।
এদিকে, ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও সংবাদমাধ্যমের ওপর কড়াকড়ির কারণে প্রকৃত চিত্র পাওয়া দুরূহ হয়ে পড়েছে। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, নিহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে এবং হাজার হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। Analysis | Habibur Rahman