১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি সন্ধ্যা ৭:১৯ সোমবার বসন্তকাল
রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এক আবেঘন ও প্রতিবাদমুখর পরিবেশে ‘শহীদি শপথ’ গ্রহণ করেছেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা। সংগঠনের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও জুলাই আন্দোলনের পরিচিত মুখ শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার এবং বিচার নিশ্চিতের দাবিতে এই কর্মসূচি পালিত হয়। মঙ্গলবার বিকেলে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে সংগঠনটির পক্ষ থেকে হত্যা মামলার বিচারকার্য ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পন্ন করার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে।
গত ১২ ডিসেম্বর নির্বাচনী প্রচারণার সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ওসমান হাদি। তাঁর মৃত্যুর পর থেকেই বিচারের দাবিতে রাজপথে সক্রিয় রয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। মঙ্গলবারের এই কর্মসূচিতে উপস্থিত নেতাকর্মীদের শপথবাক্য পাঠ করান সংগঠনের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন নিহত ওসমান হাদির বড় ভাই ওমর বিন হাদি এবং ইনকিলাব মঞ্চের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মুখপাত্র ও ডাকসু নেত্রী ফাতিমা তাসনিম জুমা।

শপথের মূলবক্তব্য ও অঙ্গীকার
শপথ গ্রহণকালে নেতাকর্মীরা দৃপ্ত কণ্ঠে ওসমান হাদির রক্তের বদলা নেওয়ার অঙ্গীকার করেন। আবদুল্লাহ আল জাবেরের নেতৃত্বে সমস্বরে তাঁরা ঘোষণা করেন, এই আত্মত্যাগ কিছুতেই বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। শপথবাক্যে আধিপত্যবাদ ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত লড়াইয়ের ঘোষণা দেওয়া হয়। নেতাকর্মীরা বলেন, ‘যে হাত ওসমান হাদিকে হত্যা করেছে এবং যারা এই দেশকে দাসের রাজ্যে পরিণত করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে আমরা শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লড়ব। ভয়, লোভ কিংবা আপসের রাজনীতিকে আমরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি।’
শপথে আরও বলা হয়, যতক্ষণ পর্যন্ত এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হবে, ততক্ষণ ইনকিলাব মঞ্চ রাজপথ ছাড়বে না। একটি ইনসাফভিত্তিক, সার্বভৌম ও জবাবদিহিমূলক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তাঁরা বলেন, যেখানে গুম-খুন বন্ধ হবে এবং শাসকরা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে।
কর্মসূচি ঘোষণা
শপথগ্রহণ শেষে সংগঠনের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের আগামী দুই দিনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি জানান, ২৪ ও ২৫ ডিসেম্বর রাজধানীসহ সারাদেশে ওসমান হাদির স্মৃতি ও সংগ্রাম নিয়ে দেয়াললিখন কর্মসূচি পালন করা হবে। এছাড়া তাঁর লড়াইয়ের বার্তা বাংলাদেশসহ বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দিতে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার চালানো হবে। আগামী ২৬ ডিসেম্বরের কর্মসূচি পরবর্তীতে জানিয়ে দেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, ‘ওসমান হাদির প্রতি সাধারণ মানুষের যে ভালোবাসা, তা কোনো ষড়যন্ত্র দিয়েই মুছে ফেলা যাবে না। তাঁর স্বপ্ন ও লড়াই একদিন এই বাংলার মাটিতে বাস্তবায়িত হবেই।’
হত্যাকাণ্ড ও প্রেক্ষাপট
গত বছরের জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন শরিফ ওসমান বিন হাদি। পরবর্তীতে আগস্টে ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ গঠন করে তিনি আওয়ামী লীগ সরকার ও ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে সারাদেশে পরিচিতি লাভ করেন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। গত ১২ ডিসেম্বর গণসংযোগকালে সন্ত্রাসীদের গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তত্ত্বাবধানে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে দ্রুত সিঙ্গাপুরে পাঠানো হলেও শেষরক্ষা হয়নি। গত বৃহস্পতিবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। শনিবার লক্ষাধিক মানুষের অংশগ্রহণে জানাজা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়।
ইনকিলাব মঞ্চের নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ওসমান হাদির খুনিদের দ্রুত আইনের আওতায় না আনা হলে উদ্ভূত যেকোনো পরিস্থিতির দায়ভার সরকারকে বহন করতে হবে।
Analysis | Habibur Rahman
