১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ৪ঠা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৪ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি বিকাল ৪:১০ বুধবার বসন্তকাল
মাত্র কৈশোরেই যিনি মাধুরী দীক্ষিত বা শ্রীদেবীর মতো তারকাদের সমান্তরালে দাঁড়িয়েছিলেন, সেই সোনম খান আজ ফিরে দেখছেন তাঁর ফেলে আসা দিনগুলো। নব্বইয়ের দশকের এই সেনসেশনাল অভিনেত্রী সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন তাঁর ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের এক স্নায়ুক্ষয়ী অভিজ্ঞতার কথা। জানালেন, জীবনের প্রথম শটেই তাঁকে পরতে হয়েছিল বিকিনি, যা সেই বয়সে ছিল এক বিশাল ‘অগ্নিপরীক্ষা’।

যশ চোপড়া পরিচালিত ‘বিজয়’ সিনেমার মাধ্যমেই মূলত বলিউডের আলোঝলমলে দুনিয়ায় পা রাখেন সোনম। ইনস্টাগ্রামে সিনেমাটির একটি দৃশ্য শেয়ার করে তিনি জানান, তখন তিনি নিতান্তই কিশোরী। শুটিং হচ্ছিল মাধ আইল্যান্ডে। সহশিল্পী ছিলেন প্রয়াত ঋষি কাপুর।
সোনম লেখেন, “আজকের দিনে দাঁড়িয়ে হয়তো অনেকেই অনেক কথা বলবেন, ট্রল করবেন। কিন্তু তাতে আমার কিছু যায় আসে না। আমি তখন কাজটা করেছিলাম শুধুমাত্র আমার মা-বাবাকে সাহায্য করার জন্য।”
তিনি স্বীকার করেন, প্রথম দিনেই ক্যামেরার সামনে বিকিনি পরা মোটেও সহজ ছিল না। প্রচণ্ড নার্ভাস ছিলেন। কিন্তু আজ পেছন ফিরে তাকিয়ে তিনি সেই কিশোরী সোনমকে বাহবা দেন। তাঁর মতে, তিনি তখন যেমন সাহসী ও নিঃসংকোচ ছিলেন, আজও ঠিক তেমনই আছেন।
সেই সময়ের শুটিং অভিজ্ঞতার একটি চমৎকার দিকও তুলে ধরেন সোনম। তিনি জানান, বিকিনি দৃশ্য হলেও সেটে ছিল পূর্ণ মর্যাদা ও সম্মানের আবহ। পরিচালক যশ চোপড়া এবং সহশিল্পী ঋষি কাপুরের ভদ্রতা আজও তাকে মুগ্ধ করে।
সোনম স্মৃতিচারণা করে বলেন, “যশজি এবং ঋষি স্যার আমার হেয়ার স্টাইলিস্টকে কড়া নির্দেশ দিয়ে রেখেছিলেন। শট শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এবং পরিচালক ‘কাট’ বলার পরমুহূর্তেই দৌড়ে এসে আমাকে ড্রেসিং গাউন পরিয়ে দেওয়া হতো। এতটাই যত্নশীল ছিলেন তাঁরা।”
১৯৮৭ সালে তেলেগু ছবি দিয়ে যাত্রা শুরু হলেও সোনম দ্রুতই বলিউডের ‘আবেদনময়ী’ নায়িকা হিসেবে পরিচিতি পান। অমিতাভ বচ্চন থেকে শুরু করে নাসিরুদ্দিন শাহ—সবার সঙ্গেই কাজ করেছেন দাপটের সঙ্গে। তবে ক্যারিয়ারের তুঙ্গে থাকাকালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে পরিচালক রাজীব রাইকে বিয়ে করে ধর্ম ও নাম পরিবর্তন করেন তিনি। আন্ডারওয়ার্ল্ডের হুমকির মুখে দেশও ছাড়তে হয় তাকে।
দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর বর্তমানে ছেলেকে নিয়ে মুম্বাইয়ে থিতু হয়েছেন সোনম। ২০১৭ সালে মুরালি নামের এক ব্যক্তিকে বিয়ে করে শুরু করেছেন নতুন জীবন। তবে সোনম খান আজও তাঁর অতীতের সেই সাহসী দিনগুলোকে মনে করেন গর্বের সঙ্গে, কোনো রাখঢাক ছাড়াই।
Analysis | Habibur Rahman


