.
বাংলাদেশ

চট্টগ্রামের কালী মন্দিরের সোনার মুকুট চুরি! দুই ভাই গ্রেফতার, কিন্তু মুকুটটি কোথায়? | Chittagong Crime

Email :73

৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ১৩ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৬শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি সকাল ১১:০০ শনিবার গ্রীষ্মকাল

চট্টগ্রামের সদরঘাটে অবস্থিত শতবর্ষী কালী মন্দির কেবল একটি উপাসনালয় নয়, এটি একটি এলাকার ইতিহাস ও অগণিত মানুষের বিশ্বাসের জীবন্ত সাক্ষী। কিন্তু সেই বিশ্বাসের পবিত্রতাকেই যেন প্রশ্নবিদ্ধ করলো এক দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা। মন্দিরের প্রতিমার গা থেকে সোনার অলঙ্কার চুরির পর পুলিশি তৎপরতায় দুই চোরকে গ্রেফতার করা গেলেও, মূল রহস্যের জট এখনো খোলেনি। কারণ, উদ্ধার হওয়া গয়নার ভিড়ে নেই দেবীর মাথার সেই মহামূল্যবান সোনার মুকুটটি।

ঘটনার পর পুলিশি তৎপরতায় দ্রুতই সাফল্য আসে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণ কাট্টলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে আবুল হোসেন ও তার ভাই আরমান হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানায়, তারা চুরিকৃত অলঙ্কার বিক্রির জন্য مشتری খুঁজছিল। তাদের কাছ থেকে প্রতিমার গলার হার ও কানের দুল উদ্ধার করা সম্ভব হয়, যা মন্দিরের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর।

তবে এই আংশিক সাফল্যই এখন বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে। চোর ধরা পড়লেও, চুরির মূল আকর্ষণ—চার ভরি ওজনের সেই সোনার মুকুটটি কোথায়? গ্রেফতারকৃত দুই ভাই কি জিজ্ঞাসাবাদে মুখ খুলছে না, নাকি মুকুটটি তারা এরই মধ্যে অন্য কোথাও সরিয়ে ফেলেছে? অথবা এই চুরির পেছনে আরও কোনো শক্তিশালী চক্র জড়িত, যাদের কাছে মুকুটটি হস্তান্তর করা হয়েছে?

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতেই এখন তাদের সব মনোযোগ নিবদ্ধ। দুই ভাইকে রিমান্ডে নিয়ে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে। পুলিশের ধারণা, মুকুটটি গলিয়ে ফেলার আগেই তা উদ্ধারের একটি সুযোগ এখনো রয়েছে।

এই ঘটনাটি স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়সহ পুরো এলাকার মানুষের মধ্যে গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। এটি কেবল একটি চুরির ঘটনা নয়, বরং শতবর্ষের ঐতিহ্য ও ধর্মীয় ಭಾವাবেগের উপর একটি সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখছেন তারা। তাদের একটাই দাবি, শুধু চোরদের শাস্তি নয়, দেবীর মুকুটটিও যেন দ্রুত উদ্ধার করে মন্দিরের পবিত্রতা পুনঃস্থাপন করা হয়।

তদন্তকারীদের সাফল্য দুই ভাইকে জালে আটকাতে পারলেও, তাদের আসল পরীক্ষা এখন শুরু। যতক্ষণ না দেবীর মস্তকের সেই মুকুটটি স্বস্থানে ফিরছে, ততক্ষণ এই মন্দিরের পবিত্রতা এবং ভক্তদের বিশ্বাসে যে আঘাত হানা হয়েছে, তা পুরোপুরি মুছে যাবে না। সমগ্র চট্টগ্রাম এখন তাকিয়ে আছে সেই চূড়ান্ত উদ্ধারের প্রতীক্ষায়।

Analysis | Habibur Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts