.
অন্যান্য

ক্ষমতার রাজনীতিতে বিএনপির নতুন চাল! ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়ে কী বোঝালেন তারেক রহমান?

Email :43

১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি সকাল ১০:২১ সোমবার বসন্তকাল

প্রতিষ্ঠিত চাপের রাজনীতির পরিবর্তে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমতের আনুষ্ঠানিক নথিভুক্তিকরণের এক নতুন কৌশল সামনে আনলো বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জানিয়েছেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে দলটি সংঘাতে না গিয়ে বরং নীতিগত আপত্তির বিষয়গুলোতে নিজেদের ভিন্নমত লিখিতভাবে তুলে ধরছে। এই পদক্ষেপকে দলটি গঠনমূলক বিরোধিতার এক নতুন অধ্যায় হিসেবে বর্ণনা করলেও রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে—এটি কি বিএনপির কৌশলগত পরিপক্কতা, নাকি পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এক ধরনের রাজনৈতিক আপস?
গত ৮ নভেম্বর, রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন (কেআইবি) কনভেনশন হলে ‘মতুয়া বহুজন সমাজ ঐক্য জোট’ আয়োজিত এক হিন্দু প্রতিনিধি সম্মেলনে বক্তব্য রাখার সময় বিএনপির রাজনৈতিক অভিধানে নতুন এই শব্দগুচ্ছ যুক্ত করেন তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট করেন, বিএনপি সরকারের ওপর কোনো প্রকার চাপ সৃষ্টি না করে, বরং যেসকল সিদ্ধান্তে তাদের দ্বিমত রয়েছে, সেখানে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ প্রদান করছে। তার ভাষ্যমতে, এটি সরকারের প্রতি বিএনপির আপত্তি জানানোর একটি স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া।

সাধারণত, প্রাতিষ্ঠানিক বা দাপ্তরিক পরিমণ্ডলে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ ব্যবহৃত হয়, যেখানে কোনো কমিটির সদস্য সংখ্যাগরিষ্ঠের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত না হলে তার ভিন্নমত লিখিতভাবে ದಾಖিল করেন। কিন্তু জাতীয় রাজনীতির মাঠে একটি প্রধান বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সরকারের বিরুদ্ধে এই নীতি প্রয়োগ এক কথায় নজিরবিহীন। অতীতে যেখানে বিএনপি হরতাল, অবরোধ বা রাজপথের কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগের রাজনীতিতে অভ্যস্ত ছিল, সেখানে এই ‘নোট অব ডিসেন্ট’ নীতিকে মাঠের রাজনীতির পরিবর্তে টেবিলের রাজনীতিতে মনোনিবেশের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন অনেকে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই কৌশলের পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। প্রথমত, এটি আন্তর্জাতিক মহল ও দেশের সুশীল সমাজের কাছে বিএনপির একটি সহনশীল ও গঠনমূলক ভাবমূর্তি তুলে ধরার প্রচেষ্টা হতে পারে। দ্বিতীয়ত, সরাসরি সংঘাতে যাওয়ার মতো অনুকূল পরিস্থিতি না থাকায়, বিএনপি হয়তো ভবিষ্যতের জন্য সরকারের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে একটি প্রামাণ্য দলিল তৈরি করে রাখতে চাইছে। এই ‘নোট অব ডিসেন্ট’গুলো পরবর্তীতে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের সমালোচনা বা পর্যালোচনার ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।বিশেষ করে, একটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি সম্মেলনে এমন ঘোষণা দেয়ার বিষয়টি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। এর মাধ্যমে বিএনপি হয়তো বোঝাতে চাইছে যে, তারা শুধুমাত্র ক্ষমতার রাজনীতি নয়, বরং সমাজের সকল অংশের মতামতকে সম্মান জানায় এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি তৈরিতে আগ্রহী।

তবে এই কৌশল বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের কাছে কতটা গ্রহণযোগ্য হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা একটি দলের জন্য রাজপথের সক্রিয় কর্মসূচির পরিবর্তে এ ধরনের পরোক্ষ বিরোধিতা তাদের রাজনৈতিক শক্তিকে সংহত করবে, নাকি আরও দুর্বল করে তুলবে—তা ভবিষ্যতই বলে দেবে। আপাতত, বিএনপির এই নতুন অবস্থান দেশের রাজনৈতিক সমীকরণে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যা নিয়ে আলোচনা ও বিশ্লেষণ চলবে আরও অনেক দিন।

Analysis | Habibur Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts