.
অন্যান্য

ভারতে ৩০, দেশে ১২০! পেঁয়াজ নিয়ে সিন্ডিকেটের কারসাজি? আসছে আমদানি করা পেঁয়াজ!

Email :128

২রা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ১৭ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২রা সফর, ১৪৪৮ হিজরি রাত ৪:৪৫ শুক্রবার বর্ষাকাল

দেশের বাজারে পেঁয়াজের ক্রমবর্ধমান দামে লাগাম টানতে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাতে জরুরি ভিত্তিতে সীমিত পরিসরে পেঁয়াজ আমদানির সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি)। বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার পরও কেজিপ্রতি পেঁয়াজের দাম ১১০ টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ায় এই পদক্ষেপের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ট্যারিফ কমিশনের এক সাম্প্রতিক পর্যালোচনায় উঠে এসেছে এক উদ্বেগজনক চিত্র। সংস্থাটি বলছে, এই মুহূর্তে প্রতি কেজি পেঁয়াজের যৌক্তিক বাজারমূল্য ৯০ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়। অথচ রাজধানীসহ সারা দেশের খুচরা বাজারে তা ১১০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সাধারণ ভোক্তাদের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করছে। সংস্থাটির মতে, একটি শক্তিশালী মধ্যস্বত্বভোগী চক্র কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে বাজার অস্থিতিশীল করে তুলছে।

সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় হলো, কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পেঁয়াজের এই উচ্চমূল্যের সুফল পাচ্ছেন না। মাঠপর্যায় থেকে ভোক্তা পর্যন্ত পৌঁছানোর আগেই কয়েক হাত বদলে পেঁয়াজের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ট্যারিফ কমিশন মনে করছে, আমদানিই হতে পারে এই চক্র ভাঙার অন্যতম কার্যকর উপায়। আমদানি করা পেঁয়াজ বাজারে প্রবেশ করলে অভ্যন্তরীণ সরবরাহের ওপর চাপ কমবে এবং সিন্ডিকেটের প্রভাব খর্ব হবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ পেঁয়াজ আমদানির জন্য মূলত ভারতের ওপর নির্ভরশীল। প্রায় ৯৯ শতাংশ পেঁয়াজই সেখান থেকে আসে, যেখানে বর্তমানে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম প্রায় ৩০ টাকার কাছাকাছি। এই বিশাল মূল্য ব্যবধানই মধ্যস্বত্বভোগীদের অতিমুনাফার সুযোগ করে দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত অর্থবছরে দেশে ৪৪ লাখ ৪৮ হাজার টন পেঁয়াজ উৎপাদিত হলেও সংরক্ষণজনিত সমস্যা ও অন্যান্য কারণে প্রায় ১১ লাখ টন পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যায়। ফলে বাজারে কার্যকর জোগান ছিল প্রায় ৩৩ লাখ টন। এই ঘাটতি মেটাতে গত অর্থবছরে প্রায় ৪ লাখ ৮৩ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছিল, যার ওপর বর্তমানে ১০ শতাংশ শুল্ক প্রযোজ্য রয়েছে।

ট্যারিফ কমিশনের এই সুপারিশ এখন বাণিজ্য ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়। মন্ত্রণালয় যদি দ্রুত আমদানির অনুমোদন দেয়, তবে আশা করা যায়, পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল হবে এবং ভোক্তারা সাময়িক স্বস্তি পাবেন। তবে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Analysis | Habibur Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts