.
আন্তর্জাতিক

ইলহান ওমরকে ‘দেশছাড়া’ করার হুমকি ট্রাম্পের! কেন এই বর্ণবাদী আক্রমণ? | Trump on Ilhan Omar

Email :52

১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি বিকাল ৫:২৭ সোমবার বসন্তকাল

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের উত্তাপ যত বাড়ছে, ততই যেন পুরোনো ক্ষতগুলো আবার সামনে আসছে। পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতির সেই চেনা বিতর্ককেই নতুন করে উস্কে দিলেন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার তার আক্রমণের কেন্দ্রে ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমর, যাকে তিনি কার্যত দেশ ছেড়ে তার জন্মস্থান সোমালিয়ায় ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এই ঘটনাটি কেবল দুই রাজনীতিকের বাগযুদ্ধ নয়, বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের বহুসংস্কৃতির আদর্শ এবং আসন্ন নির্বাচনের কৌশল নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলেছে।
ঘটনার সূত্রপাত ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে। ওই ভিডিওতে কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরকে তার মাতৃভূমি সোমালিয়া প্রসঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। এই ভিডিওটিকেই হাতিয়ার করে ট্রাম্প অভিযোগ করেন যে, ওমরের আনুগত্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি নয়, বরং অন্য দেশের প্রতি। নিজের ভাষণে তিনি বলেন, “ইলহান ওমরের মতো মানুষদের আমাদের দেশ থেকে বের করে দিতে হবে। তারা আমাদের দেশকে ঘৃণা করে।”

ট্রাম্পের এই আক্রমণাত্মক মন্তব্যের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। হোয়াইট হাউস এবং ডেমোক্র্যাটিক পার্টির পক্ষ থেকে এর তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। তারা এটিকে ট্রাম্পের বর্ণবাদী এবং বিভেদ সৃষ্টিকারী রাজনীতির এক উদাহরণ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
ইলহান ওমর শুধু একজন সাধারণ রাজনীতিবিদ নন। তিনি সোমালিয়ার গৃহযুদ্ধ থেকে পালিয়ে আসা একজন শরণার্থী, যিনি প্রতিকূলতাকে জয় করে মার্কিন কংগ্রেসের সদস্য হয়েছেন। ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রগতিশীল শিবিরের অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে তিনি প্রায়শই মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি, বিশেষ করে ইসরায়েল প্রসঙ্গে কঠোর সমালোচনামূলক অবস্থান নেন এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষায় সোচ্চার থাকেন। তার এই নির্ভীক অবস্থানই তাকে রক্ষণশীল রাজনীতির সহজ লক্ষ্যে পরিণত করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই মন্তব্য বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, বরং এটি তার সুচিন্তিত নির্বাচনী কৌশলের অংশ। এর আগেও ‘দ্য স্কোয়াড’ নামে পরিচিত চার অশ্বেতাঙ্গ নারী কংগ্রেস সদস্যকে তিনি বর্ণবৈষম্যমূলক আক্রমণ করে “নিজেদের দেশে ফিরে যাও” বলেছিলেন। আসন্ন নির্বাচনে নিজের কট্টরপন্থী শ্বেতাঙ্গ সমর্থকদের পুনরায় একত্রিত করতে এবং অভিবাসনবিরোধী মনোভাবকে উস্কে দিতেই ট্রাম্প আবারও এই পরিচিত বিভাজনের রাজনীতিতে ফিরে এসেছেন। ইলহান ওমরের মতো একজন মুসলিম ও শরণার্থী বংশোদ্ভূত স্পষ্টভাষী নারীকে আক্রমণ করার মাধ্যমে তিনি তার সমর্থকদের কাছে “আমেরিকা ফার্স্ট” বার্তাটি আরও জোরালোভাবে পৌঁছে দিতে চাইছেন।
এই ঘটনাটি কেবল ট্রাম্প ও ওমরের ব্যক্তিগত সংঘাত নয়, বরং এটি মার্কিন সমাজের গভীরে প্রোথিত বিভেদ এবং ‘আমেরিকান’ পরিচয়ের সংজ্ঞা নিয়ে চলা নিরন্তর লড়াইয়ের প্রতিচ্ছবি। একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির দেশপ্রেম যখন তার জন্মস্থান বা গায়ের রঙ দিয়ে পরিমাপ করার চেষ্টা করা হয়, তখন তা গণতন্ত্রের মৌলিক ভিত্তিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। এই বিতর্ক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আগামী দিনে কোন পথে চালিত করবে, তা সময়ই বলে দেবে।

Analysis | Habibur Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts