৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৮শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি দুপুর ২:০৬ শুক্রবার গ্রীষ্মকাল
ওয়াশিংটন ও রিয়াদের সম্পর্কের বরফ গলে এখন উষ্ণতার নতুন উচ্চতায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক মানচিত্র আক্ষরিক অর্থেই নতুন করে আঁকা হচ্ছে। সৌদি আরবকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘মেজর নন-ন্যাটো অ্যালাই’ বা ন্যাটোর বাইরের প্রধান মিত্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পরপরই চূড়ান্ত হয়েছে এক বিশাল সমরাস্ত্র চুক্তি, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে পঞ্চম প্রজন্মের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান।
পেন্টাগন ও রিয়াদ প্রশাসনের সবুজ সংকেত পাওয়া এই প্যাকেজটি কেবল অর্থের অঙ্কেই বিশাল নয়, প্রযুক্তির দিক থেকেও ঈর্ষণীয়। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই চুক্তির আওতায় সৌদি রাজকীয় বিমানবাহিনীতে যুক্ত হতে যাচ্ছে রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম বহুপ্রতিক্ষিত ‘স্টেলথ’ এফ-৩৫ ফাইটার জেট। আকাশপথের এই একচ্ছত্র আধিপত্যের পাশাপাশি স্থলভাগের যুদ্ধের জন্যও থাকছে বড় চমক—প্রায় ৩০০টি মার্কিন আব্রামস (Abrams) ট্যাংক সরবরাহ করা হবে রিয়াদকে।
আধুনিক যুদ্ধের কৌশল মাথায় রেখে ড্রোন প্রযুক্তিতেও সৌদি আরবকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। প্যাকেজে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ১৩০টি এমকিউ-৯বি (MQ-9B) ড্রোন এবং ২০০টি অত্যাধুনিক ‘গ্যামবিট লয়াল উইংম্যান’ (Gambit loyal wingman) ড্রোন। এছাড়াও আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, বর্ডার সিকিউরিটি এবং সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর জন্য বিশেষ প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এই চুক্তিতে।
হোয়াইট হাউসের দাবি, এই চুক্তি মার্কিন অর্থনীতির জন্য যেমন বড় সুসংবাদ, তেমনি মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সৌদি আরবের সক্ষমতা বৃদ্ধি অপরিহার্য। ট্রাম্প প্রশাসনের মতে, কৌশলগত মিত্র হিসেবে রিয়াদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের সামরিক বাহিনীকে আধুনিকায়ন করা ওয়াশিংটনের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনারই অংশ।
তবে ওয়াশিংটনের এই উদারতায় অস্বস্তির গভীর ছায়া পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রেরই আরেক ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েলের কপালে। তেল আবিব বরাবরই মধ্যপ্রাচ্যে তাদের ‘কোয়ালিটেটিভ মিলিটারি এজ’ (Qualitative Military Edge) বা গুণগত সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখার বিষয়ে আপসহীন। সৌদি আরবের হাতে এফ-৩৫-এর মতো ‘গেম চেঞ্জার’ অস্ত্র চলে গেলে সেই ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে বলে প্রকাশ্যে বিরোধিতা জানিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।
আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি কার্যকর হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে এক গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। একদিকে সৌদি আরবের নজিরবিহীন সামরিক উত্থান, অন্যদিকে ইসরায়েলের নিরাপত্তা শঙ্কা—দুইয়ের জাঁতাকলে মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্য আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
Analysis | Habibur Rahman


