.
আন্তর্জাতিক

মালদহে পরিবর্তনের ডাক: ‘দুর্নীতি ও অনুপ্রবেশ হটিয়ে ২০২৬-এ বাংলায় সুশাসন আনবে বিজেপি’, হুঙ্কার মোদীর

Email :34

৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৮শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি বিকাল ৩:২৮ শুক্রবার গ্রীষ্মকাল

বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়ে মালদহের মাটি থেকে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে উৎখাতের ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার দুপুরে মালদহের সাহাপুর-বাইপাস সংলগ্ন ময়দানে আয়োজিত বিজেপির ‘পরিবর্তন সংকল্প জনসভা’-য় তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, বাংলার মানুষ আর তৃণমূলের ‘দুঃশাসন’ সহ্য করতে রাজি নয়। প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় বিশ্বাস, ওড়িশা বা ত্রিপুরার মতোই এবার পশ্চিমবঙ্গেও বিজেপি বড় ব্যবধানে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করবে।

জনসমুদ্র ও পরিবর্তনের ইঙ্গিত
এদিন সভামঞ্চে দাঁড়িয়ে মোদী বলেন, “যেখানে যেখানে বিজেপির বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচার চালানো হয়েছে, সেখানেই মানুষ সত্যের পক্ষে রায় দিয়ে বিজেপিকে জয়যুক্ত করেছে। আজ মালদহের এই জনসমুদ্র এবং মানুষের উৎসাহ দেখে আমি নিশ্চিত, এবার বাংলাতেও আসল পরিবর্তন আসন্ন।” তাঁর মতে, এই পরিবর্তন কেবল ক্ষমতার হাতবদল নয়, বরং এটি হবে বাংলার হৃত গৌরব ফিরিয়ে আনার লড়াই।

রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ
রাজ্যের শাসক দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন যে, কেন্দ্রীয় সরকারের পাঠানো উন্নয়নের সুবিধা থেকে বাংলার সাধারণ মানুষকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। তিনি তৃণমূলকে ‘গরিবের শত্রু’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, “কেন্দ্র সরকার আয়ুষ্মান ভারত বা বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহের মতো প্রকল্প চালু করতে চাইলেও রাজ্য সরকার তা হতে দিচ্ছে না। উল্টে কেন্দ্রের পাঠানো উন্নয়নের টাকা লুটপাট ও তছরুপ করা হচ্ছে।” মোদীর দাবি, সাধারণ মানুষের কাছে উন্নয়নের সুফল পৌঁছতে দেওয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছে বর্তমান রাজ্য সরকার।

আইনশৃঙ্খলা ও সাংবাদিক নিগ্রহ প্রসঙ্গ
রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, রাজ্যে এখন সংবাদমাধ্যমের কর্মীরাও নিরাপদ নন। এদিন এবিপি আনন্দের সাংবাদিক ও চিত্রগ্রাহকের ওপর হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, “গণতন্ত্রে এই ধরনের গুন্ডাগিরি মেনে নেওয়া যায় না। নারী নিরাপত্তা আজ প্রশ্নের মুখে, স্কুল-কলেজেও মেয়েরা সুরক্ষিত নয়।” তিনি আশ্বাস দেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে এবং নারী ও সাংবাদিকদের পূর্ণ নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা হবে।

অনুপ্রবেশ ও জনবিন্যাসের ভারসাম্য
ভাষণে অনুপ্রবেশ ইস্যুকেও বড় হাতিয়ার করেন মোদী। তিনি বলেন, “মালদহ ও মুর্শিদাবাদের মতো জেলাগুলিতে জনসংখ্যার ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং ভাষার ফারাক তৈরি হচ্ছে। বিশ্বের সমৃদ্ধ দেশগুলোও এখন অনুপ্রবেশকারীদের বের করে দিচ্ছে। সেখানে বাংলার নিরাপত্তা ও জনবিন্যাস রক্ষায় বিজেপি সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেবে।” তিনি অভিযোগ করেন, অনুপ্রবেশের কারণেই রাজ্যে সন্ত্রাস ও হিংসার ঘটনা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে।

উন্নয়নের ডালি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
রাজনৈতিক আক্রমণের পাশাপাশি এদিন উন্নয়নের বার্তাও দেন প্রধানমন্ত্রী। মালদহের সভা থেকেই তিনি হাওড়া-গুয়াহাটি বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেস ট্রেনের উদ্বোধন করেন এবং রাজ্যে প্রায় ৩ হাজার ২৫০ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

ওড়িশা, আসাম, ত্রিপুরা এবং বিহারে এনডিএ সরকারের সাফল্যের উদাহরণ টেনে মোদী বলেন, বাংলার উন্নয়নের স্বার্থেও এখানে বিজেপির ‘সুশাসন’ মডেল জরুরি। তিনি প্রত্যয়ের সুরে বলেন, “২০২৬ সালে এই বাংলায় সরকার গড়বে বিজেপি।”

আগামীকাল, রবিবার হুগলির সিঙ্গুরে টাটার সেই ঐতিহাসিক জমিতে আরও একটি জনসভায় ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। নির্বাচনের ঠিক আগে সিঙ্গুরে মোদীর এই সফর রাজনৈতিক মহলে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। Analysis | Habibur Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts