.
বাংলাদেশ

নির্বাচন ও দেশ পুনর্গঠন: সশস্ত্র বাহিনীকে যে কঠোর বার্তা দিলেন ড. ইউনূস | Armed Forces Day 2025

Email :49

৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৮শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি দুপুর ১:৫৬ শুক্রবার গ্রীষ্মকাল

স্বাধীনতার পাঁচ দশক পর, ২০২৫ সালের সশস্ত্র বাহিনী দিবসটি পালিত হলো এক সম্পূর্ণ ভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার ভাষণে স্পষ্ট করলেন, একাত্তরের রণাঙ্গন থেকে জন্ম নেওয়া এই বাহিনীকে এখন চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের স্বপ্ন বাস্তবায়নেও সারথী হতে হবে। বিশেষ করে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তিনি বাহিনীর সদস্যদের প্রতি সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব প্রদর্শনের কঠোর বার্তা দিয়েছেন।


২১ নভেম্বরের তাৎপর্য তুলে ধরতে গিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ইতিহাসের দুটি বাঁককে এক সুতোয় গেঁথেছেন। তিনি স্মরণ করেন ১৯৭১ সালের সেই দিনটিকে, যখন সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সম্মিলিত আক্রমণে চূড়ান্ত বিজয়ের পথ প্রশস্ত হয়েছিল। একইসাথে তিনি গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের। ড. ইউনূসের মতে, সেই রক্তক্ষয়ী অধ্যায় দেশ পুনর্গঠনের যে ‘ঐতিহাসিক সুযোগ’ এনে দিয়েছে, তা কাজে লাগাতে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা অনস্বীকার্য। তিনি বিশ্বাস করেন, অতীতের মতোই দেশ গড়ার কাজে এই বাহিনী অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।


বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশে উঠে আসে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গ। দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের এই সন্ধিক্ষণে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনকে তিনি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন। প্রধান উপদেষ্টা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন, জাতির আস্থা ধরে রাখতে হলে সশস্ত্র সদস্যদের কেবল দক্ষতাই নয়, দেখাতে হবে সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব। নির্বাচনের মাঠে তাদের ভূমিকা হতে হবে প্রশ্নাতীত।


অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলার পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়েও তিনি ছিলেন আপোষহীন। ড. ইউনূস জানান, বাংলাদেশ মূলত একটি শান্তিকামী রাষ্ট্র, তবে যেকোনো বহিঃআগ্রাসন রুখে দিতে বাহিনীকে সদা প্রস্তুত থাকতে হবে। এজন্য তিনি বাহিনীর আধুনিকায়ন, নতুন প্রযুক্তির সংযোজন এবং যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।


ভাষণে জাতিসংঘ শান্তি মিশনে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের ঈর্ষণীয় সাফল্যের কথাও উঠে আসে। বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশি জওয়ানদের অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, তাদের সক্ষমতা বাড়াতে সরকার প্রয়োজনীয় আধুনিক সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা অব্যাহত রাখবে।

পরিশেষে, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য ও তাদের পরিবারের সুখ-সমৃদ্ধি কামনা করে প্রধান উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করেন, দেশের উন্নয়ন ও যেকোনো সংকট মোকাবিলায় সবাই ইস্পাতকঠিন ঐক্যের পরিচয় দেবেন।

Analysis | Habibur Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts