৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১লা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি বিকাল ৪:৪০ রবিবার গ্রীষ্মকাল
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে অভিবাসন সংস্থা এবং বিচার বিভাগের মধ্যে নজিরবিহীন উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অমান্য এবং প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)-এর ভারপ্রাপ্ত প্রধান টড লায়ন্সকে সরাসরি কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর নির্দেশ দিয়েছেন ফেডারেল আদালত।
মিনেসোটার ফেডারেল আদালতের প্রধান বিচারক প্যাট্রিক শিল্টজ এক নজিরবিহীন আদেশে আইসিই প্রধানকে আগামী শুক্রবার সশরীরে আদালতে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আদালত জানতে চেয়েছেন, আদালতের নির্দেশ অবমাননার দায়ে কেন তাকে দণ্ডিত করা হবে না।

বিচারকের ক্ষোভ: ‘ধৈর্যের শেষ সীমা’
গত সোমবার রাতে বিচারক প্যাট্রিক শিল্টজ যে লিখিত আদেশ জারি করেছেন, তাতে বিচার বিভাগের চরম হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, আইসিই ধারাবাহিকভাবে আদালতের সময়সীমা লঙ্ঘন করে চলেছে। বিশেষ করে, একজন আটক অভিবাসীর জামিন আবেদন বা বন্ড শুনানির (Bond Hearing) নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ার পরেও সংস্থাটি কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
বিচারক শিল্টজ তাঁর আদেশে উল্লেখ করেন, “এই আদালত বিবাদীর (আইসিই) প্রতি দীর্ঘ সময় ধরে অত্যন্ত ধৈর্যশীল আচরণ করেছে। সংস্থাটি মিনেসোটায় হাজার হাজার এজেন্ট পাঠিয়ে বিদেশি নাগরিকদের আটক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কিন্তু আটককৃতদের শত শত ‘হেবিয়াস কর্পাস’ পিটিশন এবং অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়ার জবাব দেওয়ার জন্য কোনো ব্যবস্থাই রাখেনি। অথচ তারা জানে, এগুলোর আইনি শুনানি নিশ্চিতভাবেই হবে।”
বিচারক দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানান, “আদালত তার ধৈর্যের শেষ সীমায় পৌঁছে গেছে।”
শর্তসাপেক্ষ মুক্তির সুযোগ
আদালত আইসিই প্রধানের জন্য একটি সুযোগও রেখেছেন। বিচারক শিল্টজ জানিয়েছেন, যদি শুক্রবারের শুনানির আগেই সংশ্লিষ্ট বন্দীকে মুক্তি দেওয়া হয়, তবে টড লায়ন্সকে আর আদালতে সশরীরে হাজির হতে হবে না এবং শুনানিটি বাতিল করা হবে। এই শর্তের মাধ্যমে আদালত স্পষ্ট করেছে যে, তাদের মূল লক্ষ্য প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন এবং আটক ব্যক্তির নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা।
মিনিয়াপোলিসে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি
আদালতের এই কঠোর অবস্থান এমন এক সময়ে এলো যখন মিনিয়াপোলিস শহর আইসিই-বিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতি বাস্তবায়নে সংস্থাটি ব্যাপক ধরপাকড় শুরু করেছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারির শুরু থেকেই মিনেসোটায় আইসিই এজেন্টদের তৎপড়তা বহুগুণ বেড়েছে।
তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় চলতি মাসে ঘটে যাওয়া দুটি মর্মান্তিক ঘটনার পর। মিনিয়াপোলিসে পৃথক দুটি অভিযানে আইসিই এজেন্টদের গুলিতে দুই মার্কিন নাগরিক—রেনি গুড এবং অ্যালেক্স প্রেটি—নিহত হন। মার্কিন নাগরিকদের ওপর অভিবাসন পুলিশের এমন প্রাণঘাতী হামলায় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা শহরের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে আইসিই-এর বিচার দাবি করছেন।
কর্তৃপক্ষের নীরবতা
আদালতের এই কঠোর নির্দেশ এবং চলমান বিক্ষোভের বিষয়ে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের মন্তব্য জানতে মঙ্গলবার যোগাযোগ করা হলে তাদের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, আইসিই হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের অধীনস্থ একটি সংস্থা।
বিশ্লেষকদের মতে, মিনেসোটার ফেডারেল আদালতের এই পদক্ষেপ ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির আইনি চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে অন্যতম কঠোর উদাহরণ হতে যাচ্ছে। শুক্রবার টড লায়ন্স আদালতে হাজির হন নাকি বন্দী মুক্তি পায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
Analysis | Habibur Rahman