.
আন্তর্জাতিক

তীব্র জনরোষ ও কয়লা আমদানি বিতর্কে শ্রীলঙ্কার জ্বালানি মন্ত্রীর পদত্যাগ

Email :1

তীব্র জনরোষ এবং কয়লা আমদানি সংক্রান্ত বিতর্কের মুখে শ্রীলঙ্কার জ্বালানি মন্ত্রী কুমারা জয়াকোডি পদত্যাগ করেছেন। একই সঙ্গে পদত্যাগ করেছেন জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সচিব উদয়াঙ্গা হেমাপালা।

গত শুক্রবার দেশটির প্রেসিডেন্টের গণমাধ্যম দপ্তর এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করে। সম্প্রতি বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য নিম্নমানের কয়লা আমদানিকে কেন্দ্র করে দেশটিতে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নিম্নমানের কয়লা আমদানির অভিযোগের তদন্তকে সামনে রেখে মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। তিনি প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিথা হেরাথ সাংবাদিকদের জানান, কয়লা ক্রয়ের ক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে এবং মন্ত্রীর সরাসরি সম্পৃক্ততায় কোনো জালিয়াতি বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও বলেন, তদন্তের জন্য ছয় মাস সময় নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায় এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার হয়।

জয়াকোডির পদত্যাগকে দেশটির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে তাঁর বিরুদ্ধে সংসদে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হলেও তা পাস হয়নি।

এদিকে প্রেসিডেন্ট দিসানায়েক ২০০৯ সাল থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য হওয়া সব কয়লা আমদানির বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি স্বীকার করেছেন, নিম্নমানের কয়লা সরবরাহ রাষ্ট্রায়ত্ত লাকভিজয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

একটি নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশ পূরণ করে এই কেন্দ্রটি। বছরে প্রায় ২২ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন কয়লা প্রয়োজন হয় সেখানে। উৎপাদন ঘাটতি মেটাতে সম্প্রতি জরুরি ভিত্তিতে ৩ লাখ মেট্রিক টন কয়লা আমদানি করা হয়েছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন পুরো কয়লা আমদানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে দেশজুড়ে নতুন করে আলোচনা ও তদন্তের দাবি জোরদার হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts