.
জাতীয়

ঢাকা বার নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা: অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ ও অংশগ্রহণ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা

Email :1

ঢাকা আইনজীবী সমিতির (ঢাকা বার) আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। নির্বাচনের পরিবেশ, কমিশন গঠন এবং স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতে ইসলামি সমর্থিত সবুজ প্যানেলের নেতা ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) ঢাকা বার ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি ঘোষণা দেন, “পাতানো নির্বাচন” ও “অনিয়মের অভিযোগ” থাকায় সবুজ প্যানেল এবারের নির্বাচনে অংশ নেবে না।

তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন গঠন প্রক্রিয়ায় পক্ষপাতিত্ব করা হয়েছে এবং একটি পক্ষ আগেই নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। তার দাবি অনুযায়ী, কমিশনের ১১ সদস্যের মধ্যে অধিকাংশই একটি নির্দিষ্ট প্যানেলের প্রভাবাধীন, যা নির্বাচনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

শিশির মনির বলেন, বারের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী কমিশন সমানভাবে দুই পক্ষ থেকে গঠিত হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা মানা হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, কমিশন গঠন থেকে শুরু করে ভোট গণনা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াকে “নিয়ন্ত্রিত ও সাজানো” করার চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন যদি স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক না হয়, তবে আইনজীবী সমাজ এই প্রক্রিয়াকে মেনে নেবে না। তার ভাষায়, “আগে থেকেই ফল নির্ধারণ করে এমন নির্বাচনে অংশ নেওয়া সম্ভব নয়।”

সংবাদ সম্মেলনে তিনি ডিজিটাল ভোট গণনার দাবি তুলে বলেন, ব্যালট পেপার ও হাতে গণনার পরিবর্তে প্রযুক্তিনির্ভর স্বচ্ছ পদ্ধতি গ্রহণ করা উচিত। অতীতের নির্বাচনে ব্যালট বাক্স সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগও তিনি পুনরায় তুলে ধরেন।

তিনি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক শক্তির প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং দাবি করেন, আইনজীবীদের মতামতকে উপেক্ষা করে একটি “একপক্ষীয় কাঠামো” তৈরি করা হচ্ছে।

শিশির মনির আরও কঠোর ভাষায় বলেন, দেশের আইনজীবী সমাজ অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ এবং যদি নির্বাচন প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা হয়, তবে তা বড় ধরনের প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিতে পারে।

উল্লেখ্য, ঢাকা আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন আগামী ২৯ ও ৩০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এবারের নির্বাচনে সভাপতি, সম্পাদকসহ মোট ২৩টি পদে ভোটগ্রহণ হবে এবং প্রায় ৩০ হাজার আইনজীবী ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

গত নির্বাচনে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক সমর্থিত প্যানেলের প্রভাব ছিল উল্লেখযোগ্য। তবে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সমিতির প্রশাসনিক কাঠামোতে নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠিত হয়, যা বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছে।

সব মিলিয়ে, আসন্ন ঢাকা বার নির্বাচনকে ঘিরে আইনজীবী মহলে একদিকে স্বচ্ছতার দাবি, অন্যদিকে অভিযোগ ও বিরোধিতার চাপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts