.
বাংলাদেশ

‘জুলাই গণহত্যা’র জেরে ঢাবির দুই হলের নাম পরিবর্তনের দাবি: উপাচার্যের কার্যালয় অবরুদ্ধ

Email :73

১৬ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ৩১শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৭ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি দুপুর ১:২৯ সোমবার শরৎকাল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) দুটি আবাসিক হলের নাম পরিবর্তনের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। ‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’ এবং ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল’-এর নাম পরিবর্তন করে যথাক্রমে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ এবং ‘ফেলানী হল’ করার দাবিতে আজ রোববার উপাচার্যের কার্যালয় ঘেরাও করেছেন শিক্ষার্থীরা। ডাকসু ও হল সংসদের নেতৃবৃন্দের নেতৃত্বে সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচিতে অংশ নেন।

এদিন দুপুর আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে জড়ো হতে থাকেন ডাকসু নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা। মিছিল নিয়ে প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকে অবস্থান নিয়ে তারা উপাচার্যের কার্যালয় অবরুদ্ধ করেন। বিক্ষোভকারীরা জুলাই বিপ্লবের চেতনাবিরোধী এবং বিগত স্বৈরাচারী সরকারের ‘আইকন’ বা চিহ্ন মুছে ফেলার দাবি জানান।
ঘেরাও কর্মসূচির সময় প্রশাসনিক ভবনের সামনে উত্তেজনা বিরাজ করে। শিক্ষার্থীরা সমস্বরে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। এর মধ্যে—‘ফ্যাসিবাদের আস্তানা, ঢাবিতে থাকবে না’, ‘মুজিববাদ মুজিববাদ, মুর্দাবাদ মুর্দাবাদ’, এবং ‘দিল্লি না ঢাকা? ঢাকা ঢাকা’—স্লোগানগুলো ছিল উল্লেখযোগ্য। শিক্ষার্থীদের দাবি, ক্যাম্পাসের স্থাপনাগুলোতে স্বৈরাচারের কোনো চিহ্ন রাখা ছাত্র-জনতার বিপ্লবের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।

আজ রোববার বেলা আড়াইটায় ডাকসু ও হল সংসদের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা ও হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনের অবস্থান নেন।

নেতৃবৃন্দের বক্তব্য ও দাবি
ঘেরাও কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জুবায়ের। তিনি তার বক্তব্যে শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বৈরাচারী শাসক হিসেবে অভিহিত করেন। জুবায়ের বলেন, ‘‘আমরা ইতিহাসের পাঠ থেকে জেনেছি, শেখ হাসিনা যে স্বৈরাচারী ব্যবস্থা কায়েম করেছিলেন, তার চেয়েও বড় স্বৈরাচার ছিলেন তার পিতা শেখ মুজিব। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে হাসিনার পতন হলেও ক্যাম্পাসে এখনো সেই স্বৈরাচারের আইকন মুজিবের নাম রয়ে গেছে। ঢাবি থেকে এই চিহ্ন মুছে ফেলতে হবে।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘জুলাই মাসে যে গণহত্যা চালানো হয়েছে, তার সমর্থনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী জড়িত ছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে এখনো দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আমাদের দাবি স্পষ্ট—অনতিবিলম্বে হলের নাম পরিবর্তন করতে হবে এবং গণহত্যার দোসরদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।’’

শিক্ষার্থীদের আল্টিমেটাম
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তন করে জুলাই বিপ্লবের অন্যতম শহীদ ‘ওসমান হাদি’র নামে এবং বঙ্গমাতা হলের নাম পরিবর্তন করে সীমান্তে হত্যার শিকার ‘ফেলানী’র নামে নামকরণ করতে হবে। তারা মনে করেন, ফেলানী নামটির মাধ্যমে সীমান্তে বিএসএফ-এর আগ্রাসনের বিরুদ্ধে একটি স্থায়ী প্রতিবাদ প্রতিষ্ঠিত হবে।

বিক্ষোভকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রশাসন যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে এই দাবি মেনে না নেয়, তবে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান করছিলেন এবং উপাচার্যের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক আশ্বাস পাওয়া যায়নি।

Analysis | Habibur Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts