৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৮শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি সকাল ১১:৫৫ শুক্রবার গ্রীষ্মকাল
গাজীপুরের শিমুলতলী এলাকায় মাসব্যাপী আয়োজিত বাণিজ্য ও কুটিরশিল্প মেলায় সিগারেটের বাড়তি দাম রাখা নিয়ে সৃষ্ট দ্বন্দ্বে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে মেলা প্রাঙ্গণ। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার রাতে মেলায় ব্যাপক হামলা ও ভাঙচুর চালায় স্থানীয় উত্তেজিত জনতা। এ সময় আতঙ্কে দিগি্বদিক ছুটতে গিয়ে অন্তত ২০ জন দর্শনার্থী আহত হন। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে রোববার (গতকাল) দুপুরে মেলাটি স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে শিমুলতলীর আর্মি ফার্মা মাঠে চলমান মেলার একটি দোকানে এক ব্যক্তি সিগারেট কিনতে যান। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দাম চাওয়া নিয়ে দোকানদারের সঙ্গে ওই ক্রেতার কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মেলা কর্তৃপক্ষের লোকজন ও দোকানদার মিলে ওই ক্রেতাকে মারধর করেন।

মুহূর্তের মধ্যে মারধরের খবরটি মেলা প্রাঙ্গণের বাইরে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তারা সংঘবদ্ধ হয়ে মেলায় প্রবেশ করে লটারির প্যান্ডেল, মেলার অফিস এবং বিভিন্ন স্টল ভাঙচুর করেন। আকস্মিক হামলায় মেলায় অবস্থানরত দর্শনার্থীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং হুড়োহুড়িতে পদদলিত হয়ে আহত হন অনেকে।
সুমন মিয়া নামের স্থানীয় এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, মূলত সিগারেটের দাম বেশি নেওয়া এবং ক্রেতাকে মারধরের জেরে এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে এই হামলা চালায়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মেলার আয়োজক ও কর্মীরা পালিয়ে যান।
খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গাজীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, তুচ্ছ ঘটনা থেকে ঝামেলার সূত্রপাত হলেও পরে তা সহিংসতায় রূপ নেয়। পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
এদিকে রোববার দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার জানান, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে মেলা কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কুটিরশিল্প মেলার নামে সেখানে দীর্ঘদিন ধরে ‘লটারি-বাণিজ্য’ বা জুয়া চলছিল, যা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে আগে থেকেই তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছিল। শনিবার রাতের ঘটনাটি সেই পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ মাত্র।
Analysis | Habibur Rahman
