
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন সন্তান ও শ্যালককে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ও শোকের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত পরিবারের কর্তা ফোরকান মিয়া পলাতক রয়েছেন এবং তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
শনিবার সকালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের রাউৎকোনা গ্রামের একটি ভাড়া বাসা থেকে পাঁচজনের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন ফোরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন খানম, তাদের তিন কন্যা সন্তান এবং শারমিনের ছোট ভাই রসুল মিয়া।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফোরকান মিয়া পেশায় প্রাইভেটকার চালক ছিলেন এবং প্রায় এক বছর ধরে পরিবার নিয়ে ওই বাসায় ভাড়া থাকতেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ ও আর্থিক বিরোধের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।
ঘটনাস্থল থেকে একটি টাইপ করা সাধারণ ডায়েরির কপিও উদ্ধার করেছে পুলিশ। সেখানে ফোরকান তার শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাত ও নির্যাতনের অভিযোগ উল্লেখ করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিশুদের মরদেহ ঘরের মেঝেতে পড়ে ছিল এবং তাদের মায়ের হাত-মুখ বাঁধা অবস্থায় লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে মাদক সেবনের কিছু আলামতও পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।
গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশ, পিবিআই, ডিবি ও সিআইডি একযোগে কাজ করছে। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং অভিযুক্ত ফোরকান মিয়াকে ধরতে একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে।
