.
জাতীয়

এক ঝলক বজ্রপাতেই শেষ স্বপ্ন: জুড়ীতে ১৩ গরু ও ১ মহিষের মৃত্যু, পথে বসল চা শ্রমিক পরিবার

Email :5

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় এক মর্মান্তিক বজ্রপাতের ঘটনায় মুহূর্তেই নিভে গেছে কয়েকটি চা শ্রমিক পরিবারের জীবিকার প্রধান অবলম্বন। বুধবার দুপুরে ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে ভয়াবহ বজ্রপাতে গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের কুচাই জ্বালাই ও পাথরটিলা এলাকায় মাঠে থাকা ১৩টি গরু ও একটি মহিষ মারা যায়।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দুপুরের দিকে আকাশ কালো হয়ে এলে শুরু হয় ঝড়। এর মধ্যেই কয়েক দফা বজ্রপাত আঘাত হানে খোলা মাঠে। সেখানে চা শ্রমিক পরিবারের গবাদিপশুগুলো চরছিল। প্রবল বজ্রপাতের আঘাতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায় ১৪টি পশু। চোখের সামনে এমন দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে পড়েন মালিকরা।
চা শ্রমিক পরিবারের জন্য গরু ও মহিষ শুধু পশু নয়, বরং তাদের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। দুধ বিক্রি, বাছুর পালন কিংবা ভবিষ্যতের সঞ্চয়—সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু ছিল এসব গবাদিপশু। কিন্তু কয়েক সেকেন্ডের একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ তাদের বহু বছরের পরিশ্রম ও স্বপ্ন কেড়ে নিয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সদস্যরা জানান, তারা এখন বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছেন। অনেকের জন্য এই পশুগুলোই ছিল সংসার চালানোর প্রধান ভরসা। একসঙ্গে এতগুলো পশুর মৃত্যু তাদের জীবন-জীবিকায় গভীর প্রভাব ফেলবে।
ঘটনার পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য দ্রুত সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দরিদ্র ও খেটে খাওয়া এসব পরিবারের পক্ষে এত বড় ক্ষতি নিজেরা সামাল দেওয়া সম্ভব নয়।
জুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুশফিকীন নূর জানিয়েছেন, বিষয়টি তার নজরে এসেছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সরকারি সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রকৃতির এক আকস্মিক আঘাতে কয়েকটি পরিবারের জীবনের চাকা যেন থমকে গেছে। এখন তাদের একমাত্র প্রত্যাশা—সরকারি সহায়তা ও সমাজের সহযোগিতা, যাতে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি খুঁজে পাওয়া যায়।

Related Tag:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts